রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দেশের প্রতিটি উপজেলায় চালু হচ্ছে ডায়ালাইসিস সেবা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৬, ০৩:১০ পিএম

দেশের প্রতিটি উপজেলায় চালু হচ্ছে ডায়ালাইসিস সেবা

ছবি: সংগৃহীত

দেশের মানুষের জন্য কিডনি রোগের চিকিৎসা সহজলভ্য করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন ডায়ালাইসিস শয্যা স্থাপন করা হবে।

রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, জেলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোতে নতুন করে ৫০টি করে ডায়ালাইসিস শয্যা যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০টি করে ডায়ালাইসিস শয্যা স্থাপন করা হবে। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সুবিধা বাড়াতে প্রতিটি উপজেলায়ও ১০টি করে ডায়ালাইসিস শয্যার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, কিডনি রোগীদের দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসার জন্য বড় শহরগুলোতে যেতে হয়। এতে রোগী ও স্বজনদের নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। তাই উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত এই সেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে মানুষের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী একই অনুষ্ঠানে দেশে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের হার বৃদ্ধি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কিছু অসাধু চক্রের কারণে অনেক মাকে প্রয়োজন ছাড়াই অস্ত্রোপচারের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। স্বাভাবিক প্রসবের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রশিক্ষিত প্রসূতি সেবাকর্মী নিয়োগ এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এসব কর্মী গ্রাম পর্যায়ে গিয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।

এ ছাড়া চলতি বছরের মধ্যেই দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে আধুনিক পরীক্ষাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং দ্রুত এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

অনুষ্ঠানে শিশুদের বিকাশ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। মানবিক সংকটে থাকা শিশুদের জন্য খেলাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও উগান্ডার চার লাখ শিশু-কিশোর উপকৃত হবে বলে জানানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এই উদ্যোগের আওতায় শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা, জীবনদক্ষতা উন্নয়ন, মানসিক সহায়তা এবং পরিবারের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করা হবে। পাশাপাশি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রেও কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ ও শিশু উন্নয়নমূলক এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ আরও সহজে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!