প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৬, ০১:৫১ পিএম
প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহ–এর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ বাতিল করেছেন আদালত। মঙ্গলবার সকালে ঢাকার একটি মহানগর আদালত মামলার বাদীপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে পূর্বে দেওয়া আদেশ প্রত্যাহার করে নতুন এই সিদ্ধান্ত দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ বাতিলের আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ ৩০ বছর পর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করলে তদন্তে কার্যকর কোনো নতুন তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। পাশাপাশি এ ধরনের উদ্যোগ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এবং কবরস্থান এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হতে পারে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী শুনানিতে বলেন, সালমান শাহকে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)–এর মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এমন একটি সংবেদনশীল স্থানে মরদেহ উত্তোলনের উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। এছাড়া বহু বছর পর কবর খনন করে প্রত্যাশিত প্রমাণ পাওয়া কঠিন বলেও তিনি আদালতের কাছে যুক্তি তুলে ধরেন।
শুনানি শেষে বিচারক আবেদনটি গ্রহণ করে পূর্বের মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি বাতিলের নির্দেশ দেন। এর ফলে আপাতত সালমান শাহের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের কোনো প্রক্রিয়া আর এগোবে না।
উল্লেখ্য, গত মে মাসে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের কাছে মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রস্তুত এবং পুনরায় ময়নাতদন্তের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতে আদালত মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে বাদীপক্ষ সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে নতুন আবেদন করেন।
গত বছর সালমান শাহের মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে দাবি করা হয়, অভিনেতার মৃত্যুর ঘটনায় রহস্যজনক বিভিন্ন দিক রয়েছে, যা পুনরায় তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা, বিতর্ক ও তদন্ত চললেও বিষয়টি এখনো সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। আদালতের সর্বশেষ এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মামলাটি নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



