প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম
বরগুনার একটি আদালতে ভুয়া চালানপত্র দাখিল করে এক আসামির জামিন নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আইনজীবী মহল, আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং মামলার বাদীপক্ষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে চালানপত্র সত্যায়িত করা আইনজীবী আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে পৃথক আবেদন জমা দিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বরগুনা শহরের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে দশ লাখ টাকা গ্রহণ করেন অভিযুক্ত মো. মাহবুবুল আলম। পরবর্তীতে ওই অর্থ পরিশোধের জন্য তিনি একটি ব্যাংকের চেক প্রদান করলেও হিসাবটিতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি অসম্মানিত হয়। এরপর প্রতারণার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত বাদীকে দশ লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন।
ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে গিয়ে অভিযুক্ত আদালতে পাঁচ লাখ টাকা জমা দেওয়ার দাবি করে একটি চালানপত্র দাখিল করেন। সেই চালানপত্রের ভিত্তিতেই তার আপিল গ্রহণ করা হয় এবং জামিনও মঞ্জুর করা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বাদীপক্ষ অর্থ উত্তোলনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গেলে জানা যায়, জমা দেওয়া চালানটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং সরকারি নথির সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বাদীপক্ষ আদালতে লিখিত অভিযোগ দাখিল করে। আদালত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আগামী ২২ জুলাই শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন। এদিকে চালানপত্র সত্যায়িত করা আইনজীবী জানিয়েছেন, তিনি যথাযথভাবে যাচাই না করেই নথিটি সত্যায়ন করেছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছেন।
মামলার বাদী অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে জাল নথি ব্যবহার করে আদালতকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, আদালতে দাখিল হওয়া আর্থিক নথিপত্র ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে নিশ্চিত না হয়ে সত্যায়িত করা হবে না। এমন প্রতারণা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য আইনজীবীদের মধ্যে নতুন নির্দেশনা অনুসরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত মো. মাহবুবুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আদালতের পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টি নতুন মোড় নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।



