রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ধর্ষণ মামলায় সাবেক এসপি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ০২:১৪ পিএম

ধর্ষণ মামলায় সাবেক এসপি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

সংগৃহীত

ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় বর্তমানে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক এবং মাগুরার সাবেক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ট্রাইব্যুনাল-১ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে উল্লেখ করে প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদন গ্রহণের জন্য নির্ধারিত শুনানির দিন অভিযুক্ত আদালতে উপস্থিত না থাকায় বিচারক তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২১ সালে মাগুরায় পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অভিযুক্তের সঙ্গে এক নারীর পরিচয় হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বাদীকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযুক্ত একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।

বাদীর অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই সময় সরকারি বাসভবন, কার্যালয়ের বিশ্রামকক্ষ এবং ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক অব্যাহত রাখা হয়। এমনকি এক পর্যায়ে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হলে অভিযুক্ত নিজেকে ওই নারীর স্বামী হিসেবে পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

পরবর্তীতে অভিযুক্তের কর্মস্থল পরিবর্তন হলেও বিয়ের প্রতিশ্রুতি বহাল থাকবে বলে জানানো হয়। কিন্তু পরে বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নিলে ক্ষতির হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

এ ঘটনায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরি করার পাশাপাশি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত অভিযোগ গ্রহণ করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করা হলে সর্বশেষ শুনানিতে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

তবে আদালতের আদেশে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও মামলার অভিযোগ এখনো বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে অভিযুক্ত আইনগতভাবে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন—এমনটি বলা যাবে না।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!