প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, এক-এগারোর সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গোয়েন্দা সংস্থার সদর দপ্তরে থাকা যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল। শনিবার দুপুরে যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
ন্যায়বিচারের স্বার্থে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচারক, কৌঁসুলি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি দল ওই গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করে। পরিদর্শন শেষে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে গোপনে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ থাকা স্থানটির বাস্তব চিত্র সম্পর্কে ধারণা নিতেই এই পরিদর্শন করা হয়েছে।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালে দেওয়া সাক্ষীদের বক্তব্য এবং তদন্তে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য থেকে এক-এগারোর সময় তারেক রহমানকে ওই কেন্দ্রের একটি কক্ষে নিয়ে নির্যাতনের তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর দাবি, একই বন্দিশালায় অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমীসহ আরও অনেককে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়েছিল।
প্রধান কৌঁসুলি বলেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তাকে অবশ্যই প্রচলিত আইনের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। তবে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে বেআইনি নির্যাতনের কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, অতীতে রাজনৈতিক বিরোধী মতের মানুষদের গোপনে তুলে নিয়ে এসব বন্দিশালায় আটকে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। অনেক নিখোঁজ ব্যক্তির এখনো সন্ধান মেলেনি। যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট গোপন বন্দিশালায় গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার চলছে।
ভবিষ্যতে দেশে এ ধরনের কোনো গোপন বন্দিশালা যাতে প্রতিষ্ঠিত না হয়, সে বিষয়ে সরকারের কাছে সুপারিশ করা হবে বলেও জানান প্রধান কৌঁসুলি। তাঁর মতে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও আইনের শাসন রক্ষা করাও সমানভাবে জরুরি।



