প্রকাশিত: আগস্ট ১৮, ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদকে বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির জন্য আবেদন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তার স্বাক্ষর করা চিঠিতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার সংশ্লিষ্ট বিধি অনুসরণ করে আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আবেদনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানাতে এবং প্রয়োজন হলে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনকে অবহিত করার কথা বলা হয়েছে।
চিঠিটি বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং পুলিশের আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার জাতীয় কেন্দ্রীয় দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত সাবেক এই সেনাপ্রধানকে শনাক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে পরিচালিত অভিযান এবং পরদিন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গুলির ঘটনায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা রয়েছে। ওই সময় তিনি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধান প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, আজিজ আহমেদ মধ্যপ্রাচ্য অথবা অন্য কোনো দেশে অবস্থান করছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারিক কার্যক্রমের আওতায় আনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার সহযোগিতা নেওয়ার এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ মামলায় বিদেশে অবস্থানরত অন্য পলাতক আসামিদেরও পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে প্রসিকিউশন। অর্থাৎ আজিজ আহমেদের ক্ষেত্রে নেওয়া উদ্যোগটি পরবর্তী সময়ে অন্যান্য পলাতক আসামির ক্ষেত্রেও অনুসরণ করা হতে পারে।
এর আগে গত ২৭ জুলাই শাপলা চত্বরের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং অন্য মামলায় গ্রেপ্তার থাকা আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলায় সাবেক মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এবং আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে। এ ছাড়া কয়েকজন সাংবাদিক ও অন্যান্য ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের বাইরে থাকা আসামিদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়া হবে।
তবে রেড নোটিশের আবেদন করা হয়েছে বলেই কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা নিশ্চিত হয় না। সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া, অবস্থানরত দেশের আইন এবং প্রত্যর্পণসংক্রান্ত বিধিবিধান অনুসরণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হয়। এখন আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে করা আবেদনের পরবর্তী অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে।



