প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আশরাফুল হক ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে শুনানিতে সালমান শাহকে হত্যার জন্য ডনের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তির একটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। তবে এটি আদালতে উপস্থাপিত একটি অভিযোগ ও অন্য মামলার স্বীকারোক্তির বরাতে করা দাবি; বিষয়টি এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
রোববার (৯ আগস্ট) আশরাফুল হক ডনকে আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী শুনানিতে ওই দাবির কথা জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রিজভী আহমদ নামে এক ব্যক্তি অন্য একটি হত্যা-চেষ্টা মামলায় দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সালমান শাহ হত্যার বিষয়ে কিছু তথ্য উল্লেখ করেছেন।
ওই স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে বলা হয়, সালমান শাহর স্ত্রী সামিরার সঙ্গে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের কথিত গোপন সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কের জেরে সালমান শাহকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় এবং আজিজ মোহাম্মদ ভাই ডনের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে চুক্তি করেছিলেন বলে স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ রয়েছে—এমন দাবি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো বিচারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই হওয়ার কথা রয়েছে।
আশরাফুল হক ডন এ মামলার এজাহারভুক্ত আট নম্বর আসামি। রোববার ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাঁকে আটক করে। তিনি বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
পরে তাঁকে মামলার তদন্তকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিকেলে তাঁকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। আবেদনে বলা হয়, ডন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। তিনি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পুনরায় আত্মগোপন করতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
শুনানির সময় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। পরে আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আশরাফুল হক ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত কয়েকজনসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে।
ডনের গ্রেপ্তার ও আদালতে নতুন করে চুক্তির অভিযোগ ওঠার পর দীর্ঘদিনের আলোচিত সালমান শাহ হত্যা মামলাটি আবারও আলোচনায় এসেছে। এখন তদন্তে এসব দাবির সত্যতা কতটা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মামলার পরবর্তী কার্যক্রম কোন দিকে এগোয়, সেটিই দেখার বিষয়।



