প্রকাশিত: মার্চ ২১, ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে শান্তির আহ্বান জানিয়ে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় এই জামাতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একসঙ্গে অংশ নেন।
দীর্ঘ সময় পর জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন, যা উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে বিশেষ তাৎপর্য সৃষ্টি করে। সকাল ৮টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী এবং কিছুক্ষণ পর রাষ্ট্রপতি ঈদগাহে পৌঁছান।
প্রধান জামাতে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, উচ্চ আদালতের বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, রাজনীতিবিদ, কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, অগ্রগতি এবং বিশ্বব্যাপী সংঘাত নিরসনের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
ঈদের এই জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক। খুতবার পর অনুষ্ঠিত মোনাজাতে দেশের সার্বিক কল্যাণের পাশাপাশি বিশ্বে অশান্তি ও সহিংসতা বন্ধের প্রার্থনা জানানো হয়।
ঈদের দিন রাজধানীর আকাশ মেঘলা থাকলেও প্রধান জামাত নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। সকাল থেকেই মুসল্লিরা সারিবদ্ধভাবে ঈদগাহে প্রবেশ করেন। প্রবেশপথে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আর্চওয়ে ও ধাতব শনাক্তকারী যন্ত্রের মাধ্যমে তল্লাশি চালানো হয়। পুরো এলাকা নজরদারিতে রাখা হয়।
ঈদগাহে প্রবেশের জন্য মৎস্য ভবন, প্রেস ক্লাব ও শিক্ষা ভবন এলাকায় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। মাঠ পূর্ণ হয়ে গেলে অনেক মুসল্লি আশপাশের সড়কেও নামাজ আদায় করেন।
এবার মূল প্যান্ডেলে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়। নারীদের জন্য পৃথক স্থান নির্ধারণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হিসাবে আশপাশের সড়ক ও খোলা জায়গাসহ প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ মুসল্লির অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হয়।
এদিকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৭টা থেকে পর্যায়ক্রমে একাধিক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও ঈদগাহ ও মসজিদগুলোতে ধর্মীয় উৎসবের আমেজে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।



