রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

এক-এগারো নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল দুই সেনা কর্মকর্তা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২৬, ০৪:০০ পিএম

এক-এগারো নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল দুই সেনা কর্মকর্তা

ছবিঃ সংগৃহীত

দুই অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও শেখ মামুন খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদে এক-এগারোর সময়কার পটভূমি এবং সে সময় বিভিন্ন ব্যক্তির ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তৎকালীন সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপর্যায়ের কয়েকজনের তালিকা তৈরি করে তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

রোববার (২৯ মার্চ) জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিবির কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক অভিযানে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে একটি মানবপাচার মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, শেখ মামুন খালেদকে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পরে একটি হত্যা মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

তদন্ত সূত্র বলছে, এক-এগারোর সময় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ, মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন এবং চাকরিচ্যুত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল চৌধুরী ফজলুল বারীসহ আরও কয়েকজন সামরিক ও বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম এসেছে। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী তখন সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসি ছিলেন এবং শেখ মামুন খালেদ ছিলেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত ও প্রভাবশালী কর্মকর্তা।

জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে, তৎকালীন রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সরিয়ে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়াটি ছিল সমন্বিত একটি উদ্যোগ। রাষ্ট্রপতিকে প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিষয়ে সামরিক বাহিনীর শীর্ষপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আরও জানা যায়, সরকার গঠনের আগে বিষয়টি দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক নেত্রীকে জানানো হয়েছিল। সে সময় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সেনা কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের খসড়াও তাদের পক্ষ থেকে নির্ধারিত হতো।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই সময় রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে সেনা কর্মকর্তারাই সিদ্ধান্ত নিতেন। দুই শীর্ষ নেত্রীকে গ্রেপ্তারের আগে বিষয়টি বিদেশের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোকেও জানানো হয়েছিল। তাদের বিশেষ কারাগারে রাখার সিদ্ধান্তও সেনা কর্মকর্তাদের পরামর্শে নেওয়া হয়।

এছাড়া, কারাগারে থাকা অবস্থায় নির্বাচন ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্দার আড়ালে দর-কষাকষিতে তৎকালীন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়মিত কারাগারে গিয়ে বৈঠক করতেন বলেও জানা গেছে।

তদন্তকারীরা জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী অনেক প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যাচ্ছেন এবং নিজের বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ফলে তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, শেখ মামুন খালেদের বিষয়ে তদন্তে উঠে এসেছে, এক-এগারোর সময় তিনি ন্যাশনাল মনিটরিং সেন্টারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ছিলেন। মোবাইল ফোনে আড়িপাতার কার্যক্রমে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে তিনি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে গোয়েন্দা সংস্থাকে সম্পৃক্ত করা, বিতর্কিত ভূমিকা এবং আবাসন-সংক্রান্ত অনিয়মসহ নানা অভিযোগের বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে।

ডিএমপির ডিবি সূত্র জানিয়েছে, এই দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!