রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আমরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেই যুদ্ধ করতে নয় বরং যুদ্ধ এড়াতে: সেনাপ্রধান

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৪:০০ পিএম

আমরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেই যুদ্ধ করতে নয় বরং যুদ্ধ এড়াতে: সেনাপ্রধান

ফাইল ছবি

শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া হয় যুদ্ধ করার জন্য নয়, বরং তা এড়ানোর উদ্দেশ্যে।

প্রতিরক্ষা খাতের প্রসঙ্গে তিনি জানান, দেশের আমদানি-রপ্তানি মূলত সমুদ্রপথনির্ভর হওয়ায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটকে একটি জাতীয় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, এর সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা বর্তমানে বড় একটি চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার পাঁচ দশক পার হলেও দেশে দ্বিতীয় কোনো রিফাইনারি গড়ে না ওঠায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। একমাত্র ইস্টার্ন রিফাইনারির সীমিত সক্ষমতার কারণে দেশের চাহিদার তুলনায় কম জ্বালানি পরিশোধন সম্ভব হচ্ছে, ফলে অধিকাংশ জ্বালানি উচ্চমূল্যে আমদানি করতে হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের অস্থিরতা জ্বালানি সরবরাহে সরাসরি প্রভাব ফেলছে, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনেও।

গত ৫ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তিন সপ্তাহব্যাপী ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কোর্সে অংশ নেওয়া ৪৫ জন ফেলোর মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়।

এই কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন সংসদ সদস্য, জ্যেষ্ঠ সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, কূটনীতিক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংলাপ ও ঐকমত্য গড়ে তোলা জরুরি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কোর্স ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে এবং অংশগ্রহণকারীরা অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখবেন।

ক্যাপস্টোন কোর্সটি কৌশলগত সচেতনতা বৃদ্ধি, গঠনমূলক চিন্তাধারা বিকাশ এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!