প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ০৮:২৬ এএম
দেশের বিদ্যুৎ খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি সংযোজনের মাধ্যমে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে সব প্রস্তুতি শেষে শুরু হচ্ছে পরমাণু জ্বালানি ইউরেনিয়াম সংযোজন কার্যক্রম, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে জ্বালানি সংযোজন একটি অপরিহার্য ধাপ। এর আগে গত ১৬ এপ্রিল পরমাণু চুল্লিতে জ্বালানি প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জ্বালানি সংযোজনের পর ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হবে এবং সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী আগস্ট নাগাদ জাতীয় সঞ্চালন ব্যবস্থায় প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হতে পারে।
প্রকল্পের কারিগরি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, চুল্লিতে জ্বালানি স্থাপনের পর তাপ উৎপন্ন হবে। সেই তাপ থেকে বাষ্প তৈরি হয়ে টারবাইন ঘোরাবে এবং এর মাধ্যমে উৎপাদিত হবে বিদ্যুৎ। এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পূর্ণ সক্ষমতায় উন্নীত করা হবে।
রূপপুর প্রকল্পের আওতায় মোট ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণকাজের দায়িত্বে রয়েছে রাশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং প্রথম ইউনিটের জ্বালানি সংযোজনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি লক্ষ্য করা গেছে।
অনুষ্ঠানে দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা এবং রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এই কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন বলে জানা গেছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিটে জ্বালানি সংযোজন সম্পন্ন হতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগতে পারে। এরপর পরীক্ষামূলক উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে ধীরে ধীরে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ অথবা আগামী বছরের শুরুতে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে, যা জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রথম গৃহীত হয় ১৯৬১ সালে। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় স্থবির থাকার পর ২০১১ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে প্রকল্পটি নতুন গতি পায়। বর্তমানে এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যুৎ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব হলেও নিরাপত্তা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা গেলে এই প্রকল্প দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



