রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সড়কে বেপরোয়া চালকদের বিরুদ্ধে নতুন কড়াকড়ি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১১, ২০২৬, ০৩:১০ পিএম

সড়কে বেপরোয়া চালকদের বিরুদ্ধে নতুন কড়াকড়ি

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং দুর্ঘটনা কমাতে নতুন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ। এখন থেকে শুধু অর্থদণ্ড দিয়েই দায় শেষ হবে না; ট্রাফিক আইন ভাঙলে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সেও সরাসরি প্রভাব পড়বে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আইন অমান্য করলেই চালকের লাইসেন্সে যুক্ত হবে নির্দিষ্ট পয়েন্ট। এই পয়েন্ট নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে চালকের লাইসেন্স।

ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে ইতোমধ্যে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। আপাতত চার চাকার যানবাহনের চালকদের ক্ষেত্রে এটি চালু থাকলেও ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে এই নিয়ম কার্যকর করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই ব্যবস্থায় মোট ১৩ ধরনের ট্রাফিক অপরাধ চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি অপরাধের জন্য আলাদা পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো চালক ট্রাফিক সংকেত অমান্য করা, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালনা কিংবা নিষিদ্ধ স্থানে গাড়ি থামানোর মতো অপরাধ করলে তার লাইসেন্সে পয়েন্ট কাটা হবে। নির্ধারিত সীমা অনুযায়ী মোট ১২ পয়েন্ট জমা হলে সেই চালকের লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে।

এর আগে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের দায় সাধারণত গাড়ির মালিকের ওপর বর্তাতো। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মামলা বা জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতেন গাড়ির মালিক। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় দায় সরাসরি চালকের ওপর বর্তাচ্ছে। ফলে চালকদের আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এখন কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হচ্ছে। আইন ভঙ্গের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে এবং একই সময়ে তার লাইসেন্সে পয়েন্ট যুক্ত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শাস্তি দেওয়া নয়; বরং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা এবং চালকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা। তারা মনে করছেন, শুধুমাত্র অর্থদণ্ড অনেক সময় কার্যকর প্রতিরোধ তৈরি করতে পারে না। কিন্তু লাইসেন্স বাতিলের ঝুঁকি থাকলে চালকেরা নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য হবেন।

ট্রাফিক বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত দুই মাসে হাজারেরও বেশি চালক এই ব্যবস্থার আওতায় পয়েন্ট হারিয়েছেন। তাদের অনেকেই ট্রাফিক নিয়ম সম্পর্কে উদাসীন ছিলেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা পরিবর্তন হতে শুরু করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে এই ব্যবস্থায় আপিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো চালক যদি মনে করেন ভুলবশত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাহলে তিনি নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আপিল করতে পারবেন। এছাড়া কেউ যদি টানা ছয় মাস কোনো ধরনের ট্রাফিক আইন ভঙ্গ না করেন, তাহলে তার কাটা পয়েন্টের মধ্যে দুই পয়েন্ট পুনরায় যুক্ত হবে। এতে চালকদের নিয়ম মেনে চলার প্রতি উৎসাহ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে বাস্তব পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, অনেক চালক এখনো এই নতুন নিয়ম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখেন না। অনেকেই জানেন না কোন অপরাধে কত পয়েন্ট কাটা হবে কিংবা লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া কীভাবে কার্যকর হবে। ফলে সচেতনতা বাড়াতে প্রচার কার্যক্রম আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, সেটির কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তারা বলছেন, দেশের সড়কব্যবস্থাকে আরও পরিকল্পিত ও লেনভিত্তিক করতে হবে। পাশাপাশি চালকদের বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের আওতায় আনা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অধিকাংশ চালক আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই গাড়ি চালানো শিখেছেন। ফলে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে তাদের জ্ঞান সীমিত। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।

রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে প্রতিদিন বাড়ছে যানবাহনের চাপ। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। এমন পরিস্থিতিতে নতুন এই পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে নিয়মের কঠোর প্রয়োগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণের ওপর।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!