প্রকাশিত: মে ১২, ২০২৬, ০১:১০ পিএম
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সম্প্রতি কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, কটূক্তি এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার জারি করা এক নির্দেশনায় অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত কিছু শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন সব মন্তব্য ও প্রচার চালাচ্ছেন, যা সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। শুধু নিজস্ব মন্তব্যই নয়, অনেকে বিভিন্ন বিতর্কিত বা নেতিবাচক লেখা ও ছবি শেয়ার করেও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অধিদপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। তাই এখন থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের শনাক্ত করে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি কর্মচারীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রণীত “সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯” অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী রাষ্ট্র, সরকার বা সরকারি নীতির বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বা অবমাননাকর বক্তব্য দিতে পারবেন না। এ নির্দেশনা অমান্য করা সরকারি চাকরিবিধির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
অধিদপ্তর মনে করছে, শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমাজের কাছে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করাও তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের প্রতিটি বক্তব্য বা কার্যক্রম সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রভাব ফেলে। এ কারণে দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখা জরুরি।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অনেকেই বলছেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষের মতপ্রকাশের বড় একটি ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। তবে সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা ও নীতিমালা মানা বাধ্যতামূলক। কারণ দায়িত্বশীল পদে থেকে কোনো মন্তব্য বা প্রচারণা রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে কয়েকজন শিক্ষক মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকা প্রয়োজন। তবে সেই স্বাধীনতা যেন শালীনতা ও আইনগত সীমার ভেতরে থাকে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলছেন, ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের সময় সরকারি দায়িত্ব ও পেশাগত অবস্থান মাথায় রাখা উচিত।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে অপপ্রচার, কটূক্তি বা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার মতো কার্যক্রমে জড়িত থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি গৃহীত ব্যবস্থার বিস্তারিত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল যুগে সরকারি কর্মচারীদের আচরণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নজরদারির মধ্যে রয়েছে। একটি পোস্ট বা মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যেই হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। ফলে দায়িত্বশীলতা, শৃঙ্খলা ও পেশাগত নীতিবোধ বজায় রাখা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য এই নতুন সতর্কবার্তা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



