প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনতে এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়নে নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা প্রকল্প, ব্যয় বৃদ্ধি, সমন্বয়ের অভাব এবং দায়িত্বে অবহেলার মতো বিষয়গুলো কঠোরভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সময়মতো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো।
বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভা শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি জানান, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ধরে রাখতে উন্নয়ন কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার সুযোগ আরও বাড়বে।
সভায় মোট ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে আটটি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি নতুন প্রকল্প এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা, জনসেবা, জ্বালানি, স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন গতি আসবে বলে আশা করছে সরকার।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, অযৌক্তিক বিলম্ব কিংবা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্তের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে কোনো প্রকল্প যেন অকারণে দীর্ঘায়িত না হয়, সে লক্ষ্যেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্প পরিচালকদের নিয়োগসংক্রান্ত নীতিমালা নতুনভাবে প্রণয়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি একটি সমন্বিত বাস্তবায়ন নির্দেশিকা প্রস্তুতের কাজও চলছে। এটি কার্যকর হলে প্রকল্প পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে আরও শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণে ব্যবহৃত দর তালিকা নিয়েও সরকার নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন দপ্তরে বিদ্যমান পৃথক দর তালিকা পর্যালোচনা করে একটি যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত কাঠামো প্রণয়নের কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক করেছে এবং শিগগিরই নতুন দর তালিকার সুপারিশ উপস্থাপন করবে। এতে প্রকল্প ব্যয়ের যথার্থতা নিশ্চিত হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেক প্রকল্প সময়মতো শেষ না হওয়ায় রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হয়েছে। সমন্বয়ের অভাব, দায়িত্বে অবহেলা এবং জবাবদিহির দুর্বলতা এ সমস্যার অন্যতম কারণ। নতুন সরকার এসব দুর্বলতা দূর করে উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনতে চায়। সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, নিয়মিত তদারকি এবং কঠোর জবাবদিহির মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।



