রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ব্যাংকে নগদ টাকার তীব্র সংকট, চাহিদার চেয়ে সরবরাহ কম

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১৪, ২০২৬, ১১:৩৩ এএম

ব্যাংকে নগদ টাকার তীব্র সংকট, চাহিদার চেয়ে সরবরাহ কম

প্রতীকী ছবি

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের বাজারে নতুন নোটের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদকেন্দ্রিক লেনদেন ও নগদ অর্থের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক বিপুল পরিমাণ নতুন টাকার প্রয়োজনীয়তা জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবার ঈদের আগে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট সরবরাহের অনুরোধ করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, কাগজ ও কালি সরবরাহে ঘাটতির কারণে এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ আট হাজার কোটি টাকার নোট ছাপানো সম্ভব হতে পারে।

অন্যদিকে, সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের কাছে বর্তমানে পুরোনো নকশার বিপুল পরিমাণ অর্ধসমাপ্ত নোট মজুদ রয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। প্রয়োজন হলে এসব নোট দ্রুত ছাপিয়ে বাজারে ছাড়ার সুযোগ থাকলেও আপাতত তা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, এটি সামগ্রিক তারল্য সংকট নয়, বরং কেবল নগদ অর্থের চাহিদা ব্যবস্থাপনার একটি অস্থায়ী পরিস্থিতি।

বর্তমানে দেশের মোট সঞ্চিত অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৪ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি। এর বিপরীতে বাজারে প্রচলিত নগদ টাকার পরিমাণ তিন লাখ কোটির ওপরে। সাধারণত ঈদ বা বড় উৎসবকে কেন্দ্র করে নগদ লেনদেন বেড়ে যাওয়ায় নতুন নোটের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উৎসবকালীন সময়ে মানুষের হাতে নগদ টাকার প্রবাহ বেড়ে যায়। ব্যবসা-বাণিজ্য, কেনাকাটা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নগদ লেনদেন বেশি হওয়ায় ব্যাংকগুলোতে নতুন ও পরিষ্কার নোটের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে।

তারা আরও জানান, বাজারে পর্যাপ্ত নতুন নোট না থাকায় অনেক সময় ছেঁড়া ও পুরোনো টাকার ব্যবহার বেড়ে যায়, যা দৈনন্দিন লেনদেনে কিছুটা অসুবিধা তৈরি করে। ব্যাংকিং ব্যবস্থার ভল্টগুলোতে বড় অঙ্কের অর্থ সংরক্ষিত থাকলেও তা দ্রুত বাজারে সরবরাহের প্রক্রিয়া সবসময় চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে পারে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন নকশার নোট চালু করতে গেলে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সাধারণত একটি নতুন নকশা তৈরি থেকে শুরু করে বাজারে ছাড়ার পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় এক থেকে দেড় বছর সময় লাগে। ফলে হঠাৎ করে বড় পরিমাণ নতুন নোট সরবরাহ করা সবসময় সম্ভব হয় না।

বর্তমানে নতুন নকশার নোট চালুর প্রক্রিয়া চলমান থাকায় বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে বলেও তারা জানান। একই সঙ্গে পুরোনো নোট ধাপে ধাপে তুলে নেওয়ার কারণে সাময়িক ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে ছেঁড়া-ফাটা নোটের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার একটি বড় কারণ হলো নিয়মিত নোট বদল প্রক্রিয়ার দুর্বলতা। অনেক ব্যাংক গ্রাহকদের কাছ থেকে পুরোনো নোট গ্রহণ ও পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ধীরগতি দেখাচ্ছে, যার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, পুরোনো ও অযোগ্য নোট সংগ্রহ করে ধ্বংস করার পাশাপাশি সমপরিমাণ নতুন নোট বাজারে ছাড়ার নিয়ম থাকলেও বাস্তব প্রয়োগে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, শিগগিরই ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে নতুন নোট বাজারে ছাড়া হবে। ঈদকে কেন্দ্র করে নগদ টাকার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি কোনো দীর্ঘমেয়াদি সংকট নয়, বরং মৌসুমি চাহিদার একটি চাপ। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খুব দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!