প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২৬, ১১:৩১ এএম
দেশজুড়ে পরিচালিত বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির ইতিবাচক প্রভাব এখন দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। হামের সংক্রমণে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধারাবাহিক টিকাদান কার্যক্রমের ফলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যেসব এলাকায় বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল, সেখানে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। অধিকাংশ উপজেলায় বর্তমানে প্রতিদিন নতুন রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কম, অনেক জায়গায় তা দুই অঙ্কের নিচে নেমে এসেছে।
গত এপ্রিল মাসের শুরুতে দেশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়। পাঁচ থেকে উনষাট মাস বয়সী শিশুদের লক্ষ্য করে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, টিকা গ্রহণের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এর কার্যকারিতা স্পষ্ট হতে শুরু করে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় এই বিশেষ কার্যক্রম চালুর পর সেখানে হামের সংক্রমণ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে এসেছে। একই সঙ্গে সারাদেশেও রোগটির বিস্তার আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা গ্রহণের পর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে। ফলে টিকাদান শুরু হওয়ার দুই থেকে তিন সপ্তাহ পরই এর প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যায়। বর্তমান পরিস্থিতিও সেই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত কমতে শুরু করে, যা টিকাদান কার্যক্রমের সফলতার একটি বড় প্রমাণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। শুধু গ্রামীণ উপজেলা নয়, কয়েকটি বড় নগর এলাকাতেও একই ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
স্বাস্থ্য খাতের আরেকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, হামে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় এখন মৃত্যুহারও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। তবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে টিকাদান কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির সফলতা ধরে রাখতে হলে শুধু ক্যাম্পেইন নয়, নিয়মিত টিকা গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা প্রদান ও সচেতনতা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মতে, আগের তুলনায় এখন অভিভাবকদের অংশগ্রহণও অনেক বেড়েছে, যা এই সাফল্যের অন্যতম কারণ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সরকারের বিশেষ টিকাদান উদ্যোগে হামের সংক্রমণ দ্রুত কমে আসছে এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই অগ্রগতি ধরে রাখতে হলে টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।



