প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর ও আধুনিক করতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন আজ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর-এর আওতাধীন কেন্দ্রীয় ঔষুধাগার (সিএমএসডি)-তে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ১১টি হাসপাতালের মাঝে ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন কনসেনট্রেটর হস্তান্তর করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, “সরকার দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করছে। আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির সুবিধা শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতেও উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। একজন রোগী যেন শুধুমাত্র যন্ত্রপাতির অভাবে জীবন হারান না—সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “করোনা মহামারির অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে, জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় অক্সিজেন ও ভেন্টিলেটরের গুরুত্ব কতটা বেশি। তাই সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করছে। চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহারের বিষয়েও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
মন্ত্রী বলেন, “স্বাস্থ্যখাতে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষ যাতে নিজ জেলার হাসপাতালেই মানসম্মত চিকিৎসা পান, সেজন্য সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।”
অনুষ্ঠানে ১১টি হাসপাতালের প্রত্যেকটিকে ১টি করে ভেন্টিলেটর এবং ৫টি করে অক্সিজেন কনসেনট্রেটর প্রদান করা হয়। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন এসব যন্ত্রপাতি হাসপাতালগুলোর জরুরি ও নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের (আইসিইউ) সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা মহামারির অভিজ্ঞতার পর দেশে অক্সিজেন ও ভেন্টিলেটর সুবিধার প্রয়োজনীয়তা নতুনভাবে সামনে আসে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, হৃদরোগ ও বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় এসব যন্ত্রপাতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সরকারের এই উদ্যোগ প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীদের জন্যও আশার বার্তা হয়ে এসেছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও কেন্দ্রীয় ঔষুধাগার (সিএমএসডি)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, শুধু যন্ত্রপাতি সরবরাহ নয়, এগুলোর সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোর চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্যখাতে সরকারের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ বাড়ানো সময়োপযোগী ও মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসেবা বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত আধুনিক যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করা গেলে রাজধানীমুখী রোগীর চাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসাসেবা পাবেন। সরকারের এই উদ্যোগ সেই লক্ষ্য অর্জনের পথকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেও তারা মনে করছেন।



