রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
২৪০০ রোগীর পাশে আইএফআরসি 

দেশের ১২ হাসপাতালে চিকিৎসা সহায়তা ও জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম বিতরণ 

শহিদুল ইসলাম খোকন

প্রকাশিত: মে ২৩, ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম

দেশের ১২ হাসপাতালে চিকিৎসা সহায়তা ও জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম বিতরণ 

ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অসহায় ও নিম্নআয়ের রোগীদের পাশে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশন (আইএফআরসি)। ২৪০০ রোগীকে দেওয়া হবে ১০ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা, সংকটময় সময়ে মানবিক সহায়তায় আন্তর্জাতিক রেডক্রসের বড় উদ্যোগ, মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে দেশের ১২টি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ ও জরুরি সেবাসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি ২ হাজার ৪০০ রোগীকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা প্রদান করা হবে।

স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলমান স্বাস্থ্য সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ের চাপের মধ্যে এই উদ্যোগ হাজারো পরিবারের জন্য স্বস্তি ও আশার বার্তা হয়ে এসেছে।

আইএফআরসি সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসাসেবা জোরদার এবং সংকটাপন্ন রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে নরমাল স্যালাইন, শিশু ভেন্টিলেটর, নেবুলাইজার মেশিন ও অক্সিজেন ফ্লো মিটার সরবরাহ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে চিকিৎসাধীন দরিদ্র রোগীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে তারা ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য জরুরি চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে পারেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে অক্সিজেন ও জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের চাহিদাও বেড়েছে কয়েকগুণ। এমন বাস্তবতায় আইএফআরসির এই সহায়তা হাসপাতালগুলোর সেবাদান সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

যেসব হাসপাতালে দেওয়া হচ্ছে সহায়তা: 

এই কর্মসূচির আওতায় সহায়তা পাচ্ছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ১২টি সরকারি হাসপাতাল। এর মধ্যে রয়েছে— মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (বরিশাল), ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতাল, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল (মহাখালী), বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, নওগাঁ ১০০ শয্যা সদর হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, কক্সবাজার।

প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী হাসপাতালগুলোতে মোট ১ লাখ ব্যাগ নরমাল স্যালাইন, ১১টি শিশু ভেন্টিলেটর, ২৭টি নেবুলাইজার মেশিন এবং ২৭টি অক্সিজেন ফ্লো মিটার সরবরাহ করা হবে।

সবচেয়ে বেশি নরমাল স্যালাইন বরাদ্দ পেয়েছে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতাল—প্রতিটি প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে ২০ হাজার ব্যাগ করে স্যালাইন। এছাড়া শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পাচ্ছে ১৫ হাজার ব্যাগ করে স্যালাইন।

রোগীদের জন্য নগদ সহায়তা: 

আইএফআরসি জানিয়েছে, এই কর্মসূচির আওতায় ২ হাজার ৪০০ রোগীকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। অর্থাৎ শুধুমাত্র নগদ সহায়তা বাবদ ব্যয় হবে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে অনেক পরিবার মাঝপথে চিকিৎসা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। কেউ জমি বিক্রি করেন, কেউ ধারদেনায় জড়িয়ে পড়েন। অনেক রোগী সময়মতো ওষুধ কিনতে না পারায় জটিলতা বাড়ে। ফলে এই নগদ সহায়তা দরিদ্র পরিবারের জন্য জীবনরক্ষাকারী সহায়তা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, “সরকারি হাসপাতালে অধিকাংশ রোগী নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের। চিকিৎসার পাশাপাশি ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ জোগানো তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই সহায়তা অনেক পরিবারের জন্য বড় স্বস্তি এনে দেবে।”

স্বাস্থ্যখাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব: 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, জলবায়ু পরিবর্তন, সংক্রামক রোগের ঝুঁকি এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কারণে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত এখন বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ নয়, বরং রোগীকেন্দ্রিক মানবিক সহায়তা এখন সময়ের দাবি। কারণ একটি অসুস্থ মানুষ শুধু শারীরিক কষ্টই ভোগ করেন না, তার সঙ্গে পুরো পরিবারও আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়ে।

মানবিকতার বার্তা: 

স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এই উদ্যোগ কেবল একটি সহায়তা কর্মসূচি নয়—এটি মানবিক সংহতি ও দায়িত্ববোধের প্রতীক। যখন একটি পরিবার অসুস্থতার সঙ্গে যুদ্ধ করে, তখন তাদের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবতা।

আইএফআরসির এই উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্যখাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও এমন সহায়তা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র রোগীরাও এর সুফল পাবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!