প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
বাংলা সাহিত্য, সংগীত, সাম্য ও মানবতার অনন্য প্রতীক জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী আজ। বিদ্রোহ, অসাম্প্রদায়িকতা এবং মানুষের মুক্তির বার্তা দিয়ে যিনি যুগের পর যুগ বাঙালির হৃদয়ে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন, সেই মহান কবিকে স্মরণে দেশজুড়ে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে ময়মনসিংহের ত্রিশাল, কুমিল্লা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় দিনব্যাপী আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি, সংগীত পরিবেশনা ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এবার জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবেও ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকার আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে কবির সাহিত্য, দর্শন ও চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ের প্রধান অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশালে, যেখানে কবির স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন স্থানে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক আয়োজন চলছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং নজরুল একাডেমি প্রাঙ্গণে আলোচনা, সংগীত পরিবেশনা ও স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। জন্মজয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেন এবং জাতীয় জীবনে নজরুলের চেতনা আরও ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাজধানী ঢাকায়ও দিনটি ঘিরে রয়েছে ব্যাপক কর্মসূচি। বাংলা একাডেমিতে সাহিত্য ও সংস্কৃতিভিত্তিক আলোচনা, পুরস্কার প্রদান এবং সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্য ও দর্শন নিয়ে বিশেষ আলোচনা চলছে। একইসঙ্গে দেশের বিশিষ্ট শিল্পীরা কবির গান পরিবেশন করছেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে নজরুলকে স্মরণ করা হচ্ছে। আবৃত্তি, নৃত্যনাট্য এবং সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হচ্ছে বিদ্রোহ, প্রেম ও মানবতার কবির বহুমাত্রিক সৃষ্টিকর্ম। রাজধানীর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও পৃথকভাবে দিবসটি পালন করছে।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারি পাঠাগার, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে বইপাঠ, রচনা প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় কবির স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতেও বিশেষ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৮৯৯ সালের ২৪ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। বাংলা সাহিত্য, সংগীত ও সমাজচিন্তায় তার অবদান আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। সাম্য, মানবতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের যে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ তিনি ছড়িয়ে গেছেন, তা আজও বাঙালির চেতনায় দীপ্ত হয়ে আছে।



