প্রকাশিত: মে ৩০, ২০২৬, ১১:৪২ এএম
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, দেশপ্রেম ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তার দূরদর্শী ভূমিকার কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, জিয়াউর রহমানের সৎ, সাদামাটা ও দায়িত্বশীল জীবনযাপন দেশের মানুষের মনে দীর্ঘদিন ধরে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তিনি মনে করেন, একজন দৃঢ়চেতা ও বাস্তবমুখী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শহীদ জিয়ার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
শনিবার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পঁয়তাল্লিশতম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। তিনি শহীদ জিয়ার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, দেশের জন্য তার অবদান ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, জিয়াউর রহমান শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক সৈনিক এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতীক। তার জীবনের নানা দিক, বিশেষ করে সততা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার মানসিকতা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি স্মরণ করেন, উনিশশ একাশি সালের ত্রিশে মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে জিয়াউর রহমান নিহত হন। এই ঘটনাকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার অকাল মৃত্যু জাতির জন্য এক বড় ক্ষতি ছিল।
মহান মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতার সূচনালগ্নে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে জাতিকে প্রতিরোধযুদ্ধে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার সেই ঘোষণা ও নেতৃত্ব দেশের মানুষের মনে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে আরও দৃঢ় করে এবং মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে। যুদ্ধক্ষেত্রে অসাধারণ সাহসিকতার জন্য তাকে ‘বীর উত্তম’ উপাধিতে সম্মানিত করা হয়।
রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন ধারা প্রতিষ্ঠার কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালু, মতপ্রকাশের সুযোগ বৃদ্ধি এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।
রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, উৎপাদন বৃদ্ধি, আত্মনির্ভরতা অর্জন এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে জিয়াউর রহমান নানা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। তার ঘোষিত উনিশ দফা কর্মসূচি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের একটি কার্যকর ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও শহীদ জিয়ার ভূমিকা স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মর্যাদা রক্ষা এবং বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে তিনি সুদূরপ্রসারী নীতি গ্রহণ করেছিলেন, যা পরবর্তীকালে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীর শেষে বলেন, সীমিত সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করলেও গভীর দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ এবং বাস্তবমুখী চিন্তার মাধ্যমে জিয়াউর রহমান এমন কিছু দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, যা দেশের ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।



