প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম
দীর্ঘ প্রায় ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মো. মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ছদ্মপরিচয়, গোপন যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত কৌশল ব্যবহার করে তিনি নিজের অবস্থান আড়াল করে রেখেছিলেন। তবে ধারাবাহিক অনুসন্ধান ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
জানা গেছে, রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকা থেকে বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে পূর্বের রায় এবং বিদ্যমান আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোজাফফর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও পরিচিতজনের সঙ্গে একাধিক গোপন যোগাযোগ মাধ্যমে কথা বলতেন। বিভিন্ন নামে নিবন্ধিত মুঠোফোন সংযোগ, ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ এবং অবস্থান গোপন রাখার বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করায় তাকে শনাক্ত করা সহজ ছিল না। তবে একটি চলমান তদন্তে পাওয়া যোগাযোগের সূত্র ধরে সন্দেহভাজন কয়েকটি নম্বর ও তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। পরে ধারাবাহিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে তিনি দেশে ফিরে ভিন্ন পরিচয়ে অবস্থান করতে থাকেন বলে দাবি করেছেন। যদিও এসব তথ্য যাচাই করে দেখছে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাগুলো।
তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের আগে তিনি অত্যন্ত সতর্কভাবে চলাফেরা করতেন এবং নিজের পরিচয় গোপন রাখতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতেন। ফলে দীর্ঘ সময় তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। তবে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এদিকে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। প্রচলিত আইন এবং আদালতের রায়ের আলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তার দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পুরো বিষয়টি, কারা তাকে সহায়তা করেছে এবং কীভাবে তিনি পরিচয় গোপন রেখেছিলেন—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বহু বছর পলাতক থাকার পর এই গ্রেপ্তার দেশের আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচারপ্রক্রিয়া এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দীর্ঘমেয়াদি তদন্ত কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই শেষে তদন্ত শেষ হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।



