রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আসছে ১,০০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল, উদ্বোধন হচ্ছে ৫ শিশু হাসপাতাল 

শহিদুল ইসলাম খোকন

প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৬, ০২:১০ পিএম

আসছে ১,০০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল, উদ্বোধন হচ্ছে ৫ শিশু হাসপাতাল 

ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আধুনিক, জনবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে চলমান ও আসন্ন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (৩ জুন) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা শক্তিশালীকরণের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের ক্রমবর্ধমান চিকিৎসা চাহিদা পূরণ, বিদেশে চিকিৎসা নির্ভরতা কমানো এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার একযোগে বেশ কয়েকটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে চীনের সহযোগিতায় নির্মিতব্য ১,০০০ শয্যার অত্যাধুনিক হাসপাতাল, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৫টি শিশু হাসপাতালের উদ্বোধন এবং সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালগুলোর সেবার মান সম্প্রসারণ।

মন্ত্রী বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি জনগণের মৌলিক অধিকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের মানুষের বিদেশমুখী হওয়ার প্রয়োজন হবে না।”

তিনি জানান, চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় নির্মাণাধীন ১,০০০ শয্যার হাসপাতালটি চালু হলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষায়িত চিকিৎসা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
হাসপাতালটিতে উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা, আইসিইউ, ক্যানসার চিকিৎসা ইউনিট, হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র এবং জরুরি সেবার আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

দেশের শিশুস্বাস্থ্য সেবাকে আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন অঞ্চলে ৫টি শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম উদ্বোধনের বিষয়েও আলোকপাত করেন তিনি। এসব হাসপাতালে নবজাতক ও শিশুদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা, নিবিড় পরিচর্যা এবং উন্নত রোগ নির্ণয় সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্রিফিংয়ে আরও বলেন, স্বাস্থ্যখাতের চলমান সংস্কার কার্যক্রম, চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার ডিজিটালাইজেশন, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পিতভাবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয় কমবে, বিশেষায়িত সেবার প্রাপ্যতা বাড়বে এবং জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

ব্রিফিং শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার নির্দেশনা দেন এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সবাইকে আন্তরিকতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্যখাতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবার সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি উন্নত, মানবিক ও টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার যে অঙ্গীকার সরকার করেছে, বুধবারের এই ব্রিফিং সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!