প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে আদ-দ্বীন হাসপাতালের দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মন্ত্রী জানান, ‘গেল ২৭ মে ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয়টি নবজাতক শিশু মারা গেছে। এ ঘটনাটিকে খুবই সিরিয়াসলি নিয়েছি। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আজ বিকেল ৩টায় সেই প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি।’
তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তদন্ত কমিটি হাসপাতালটি পরিদর্শনপূর্বক ঐক্যমত পোষণ করেন যে ভবনটি হাসপাতাল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয়। সংশ্লিষ্ট পোস্ট অপারেটিভ কক্ষ নম্বর দুই পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ শেষে প্রতীয়মান হয়, কক্ষটিতে দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকায় এবং স্বাভাবিক ভেন্টিলেশন কার্যক্রম না থাকায় প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের মাত্রার ঘাটতি ছিল। পক্ষান্তরে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল। দায়িত্বরত সেবিকাদের দায়িত্বে চরম অবহেলা ও অসহযোগিতা ছিল।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নবজাতকদের আকস্মিক শারীরিক অবনতিশীল অবস্থায় হাসপাতালের সক্রিয় ইমারজেন্সি মেডিকেল রেসপন্স ছিল না। অভিভাবকদের আহ্বানের সাড়া না দিয়ে সংশ্লিষ্ট নার্স কোনো চিকিৎসককে বিষয়টি না জানিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। এমনকি নবজাতকদের মৃত্যু রোধে প্রয়োজনীয় উপযুক্ত যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়নি।’
তিনি জানান, প্রায় ৯০০ বর্গফুটের একটি কক্ষে ১১ নবজাতক ও রোগীর স্বজনসহ প্রায় ৫০ জন অবস্থান করছিলেন, যা ধারণক্ষমতার অনেক বেশি ছিল।
মৃত্যুর কারণ হিসেবে তদন্ত কমিটি উল্লেখ করেছে, ‘ছোট বদ্ধ কক্ষে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকা এবং বিকল্প ভেন্টিলেশন না থাকায় বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায় ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায়, যা নবজাতকদের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।’
গত ২৭ মে ভোরে হাসপাতালটির পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ডে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।



