প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম
বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে বড় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বিশ্বের ২০২টি দেশে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে, যা দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিনির্ভরতা কমিয়ে বহুমুখী রপ্তানি খাত গড়ে তুলতে সরকার নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান তিনি।
সোমবার জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ এখনো তৈরি পোশাক শিল্প থেকে এলেও সরকার বিকল্প খাতকে শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটভিত্তিক পণ্য, কৃষিপণ্য, ওষুধশিল্প, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা, হালকা প্রকৌশল পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, মাছ ও প্লাস্টিকজাত শিল্পকে রপ্তানির নতুন সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, এসব খাতে রপ্তানিকারকদের সুবিধা দিতে বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। আংশিক রপ্তানিকারকদের ব্যাংক নিশ্চয়তার ভিত্তিতে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলকভাবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারেন।
দেশের প্রতিটি জেলার বিশেষ পণ্যকে সামনে এনে রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়াতে জেলা ভিত্তিক একটি কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। এর মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিশেষ পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিতি লাভ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের ফলে কিছু আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি হয়েছে এবং আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে।
এছাড়া ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার নতুন বাজারে প্রবেশ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, প্রতিনিধি দল পাঠানো এবং কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। দেশের বিদেশি মিশনগুলোকে অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে আরও সক্রিয় করা হয়েছে, যাতে বাংলাদেশি পণ্যের প্রচার ও বাজার সম্প্রসারণ সহজ হয়।
মন্ত্রী জানান, রপ্তানিকারকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আলোচনা সভা ও কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি কাঁচামাল আমদানি সহজ করতে আর্থিক সহায়তা এবং স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে একটি দীর্ঘমেয়াদি রপ্তানি নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার মাধ্যমে দেশের রপ্তানি খাতকে আরও টেকসই ও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তৈরি পোশাক শিল্পের বাইরে নতুন খাতগুলোকে শক্তিশালী করা গেলে দেশের অর্থনীতি আরও স্থিতিশীল হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।



