প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেট ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের দামে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে চার স্তরের সিগারেটের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নিকোটিনজাত পণ্য ও উত্তপ্ত তামাকজাত দ্রব্যের ওপরও বাড়তি শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হতে যাওয়া বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ সংক্রান্ত ঘোষণা দিতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সরকারের দাবি, স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে এমন পণ্যের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ বাড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বাজারে থাকা নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম তুলনামূলক কম বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে ১০ শলাকার এক প্যাকেট নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য ৬০ টাকা থাকলেও তা বাড়িয়ে ৬২ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে মধ্যম স্তরের সিগারেটের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধি আরও বেশি হতে যাচ্ছে। এ স্তরের প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯০ টাকা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
উচ্চস্তরের সিগারেটের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বর্তমানে ১৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম বেড়ে ১৬০ টাকায় পৌঁছাতে পারে। তবে সবচেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধি হতে যাচ্ছে অতি উচ্চস্তরের সিগারেটে। এ স্তরের প্রতি প্যাকেটের দাম ১৮৫ টাকা থেকে সরাসরি ২১০ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
শুধু সিগারেট নয়, নিকোটিনজাত পণ্যের ওপরও কড়াকড়ি আরোপের চিন্তা করছে সরকার। প্রতি ১০ গ্রাম নিকোটিন পাউচের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৫০০ টাকা নির্ধারণের পাশাপাশি এর ওপর ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি আমদানির ক্ষেত্রেও উচ্চহারে শুল্ক ধার্যের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এ ছাড়া উত্তপ্ত তামাকজাত দ্রব্যের প্রতিও কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। প্রতি ১০ শলাকার সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২১০ টাকা নির্ধারণের পাশাপাশি এর ওপর ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব পণ্যের ওপর এক শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন অতিরিক্ত কর আরোপের চিন্তাও রয়েছে।
সরকারি সূত্র বলছে, তামাক ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পণ্যের ব্যবহার কমাতে দীর্ঘদিন ধরেই মূল্য বৃদ্ধি ও শুল্ক আরোপের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এবারের বাজেটেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।



