প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ১১:৩১ এএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন নির্ধারিত কার্যসূচি সম্পন্ন করে শেষ হয়েছে। মোট ২৬ কার্যদিবস ধরে চলা এ অধিবেশনে বাজেটের ওপর দীর্ঘ আলোচনা, একাধিক সরকারি বিল পাস, সংসদীয় কমিটি গঠন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্নোত্তর ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অধিবেশনের শেষ দিনে রাষ্ট্রপতির সমাপ্তি-সংক্রান্ত ঘোষণা পাঠের পর ডেপুটি স্পিকার আনুষ্ঠানিকভাবে অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের অধিবেশনের উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে ছিল বাজেট নিয়ে আলোচনা। মোট ১৪ কার্যদিবস ধরে চলা এই আলোচনায় দেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন পরিকল্পনা, জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং বিভিন্ন খাতের বরাদ্দ নিয়ে বিস্তারিত মতামত তুলে ধরেন সংসদ সদস্যরা। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ৫১ মিনিটব্যাপী এই আলোচনায় ৩১৬ জন সংসদ সদস্য অংশগ্রহণ করেন, যা অধিবেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও এবারের অধিবেশন ছিল উল্লেখযোগ্য। পুরো অধিবেশনজুড়ে ১০টি সরকারি বিল সংসদে উত্থাপন, আলোচনা এবং পাস করা হয়েছে। পাশাপাশি সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিসহ মোট ১১টি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া সংসদের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে কার্য উপদেষ্টা কমিটিও পুনর্গঠন করা হয়েছে।
সংসদের কার্যপ্রণালী অনুযায়ী বিভিন্ন বিধির আওতায় উত্থাপিত নোটিশ নিয়েও বিস্তৃত আলোচনা হয়। ৭১ নম্বর বিধি অনুযায়ী মোট ৭১৫টি নোটিশ জমা পড়ে। এর মধ্যে ২৪টি নোটিশ গ্রহণ করা হয় এবং ২২টি নোটিশের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ৭১(ক) বিধি অনুসারে ১২৫টি সংক্ষিপ্ত নোটিশ আলোচনায় আসে। অন্যদিকে ১৩১ নম্বর বিধি অনুযায়ী উত্থাপিত চারটি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শেষে প্রয়োজনীয় নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
প্রশ্নোত্তর পর্বেও সংসদ সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ২৭৮টি প্রশ্ন জমা দেওয়া হয়, যার মধ্যে ৩৫টি প্রশ্নের উত্তর সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের উদ্দেশে ৫ হাজার ৩১টি প্রশ্ন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৭৪টি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এবারের বাজেট অধিবেশনে আইন প্রণয়ন, নীতিগত আলোচনা, বাজেট পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হওয়ার মাধ্যমে সংসদীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন কমিটি গঠন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের আইনসভা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



