প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
ব্যয় সংকোচন এবং সরকারি অর্থের সাশ্রয় নিশ্চিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের পর অনুষ্ঠিত হয়ে আসা ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে নেওয়া এই পদক্ষেপের ফলে সরকারি কোষাগারের প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় কমানোর লক্ষ্য থেকেই এ বছরের বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজ আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের দৃষ্টিতে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক ব্যয় সীমিত রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
প্রতিবছর বাজেট অনুমোদনের দিন জাতীয় সংসদ ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি নৈশভোজের আয়োজন করা হতো। এতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নিতেন। তবে এবার সেই দীর্ঘদিনের প্রচলিত আয়োজন থেকে সরে এসেছে সরকার।
অতিরিক্ত প্রেসসচিব আরও জানান, আগের বছরগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে। কোনো কোনো অর্থবছরে এই ব্যয়ের পরিমাণ কয়েক দশকোটি টাকায় পৌঁছেছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিক আয়োজনের জন্যও উল্লেখযোগ্য অঙ্কের সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এসব ব্যয়ের কিছু অংশের বিল এখনো পরিশোধের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকারি ব্যয়ে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আপ্যায়ন ভাতা কমানো হয়েছে এবং প্রয়োজন ছাড়া কোনো অতিরিক্ত আয়োজন না করার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এর ফলে সরকারি অর্থ আরও কার্যকরভাবে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রেসসচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আপ্যায়ন ব্যয় আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ব্যয়ও প্রয়োজনীয় সীমার মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো, ব্যয়ের প্রতিটি খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সাশ্রয়ের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা।
এদিকে বাজেট পাসের পুরো কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনের শুরু থেকেই জাতীয় সংসদে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বাজেট-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব, মঞ্জুরি দাবি, ভোটাভুটি এবং আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। অধিবেশনের বিরতির সময়ও তিনি দাপ্তরিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি নিষ্পত্তি ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজ বাতিলের সিদ্ধান্ত কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন বন্ধ করা নয়; বরং সরকারি ব্যয়ে সংযম, জবাবদিহি এবং মিতব্যয়ী প্রশাসন গড়ে তোলার একটি প্রতীকী পদক্ষেপ। ভবিষ্যতেও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারি অর্থ ব্যবহারে আরও সতর্ক অবস্থান বজায় রাখার ইঙ্গিত মিলেছে এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে।



