প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
দেশীয় বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে নগদ সহায়তার পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ খাতের রপ্তানিকারকদের জন্য নগদ সহায়তার হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
দেশীয়ভাবে উৎপাদিত কাঁচামালের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই সুবিধার ফলে দেশীয় সুতা, কাপড়সহ অন্যান্য কাঁচামাল ব্যবহারকারী রপ্তানিকারকরা বিশেষ সুবিধা পাবেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ বিষয়ে একটি সংশোধিত নির্দেশনা জারি করেছে। এর মাধ্যমে আগে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের কিছু বিষয় পরিবর্তন করে নতুন নগদ সহায়তার হার কার্যকর করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা ৫ শতাংশ হারে প্রদান করা হবে। এর আগে এই হার ছিল ১ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে তৈরি পোশাকসহ দেশীয় বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তারা আগের তুলনায় বেশি আর্থিক সুবিধা পাবেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, দেশীয় উৎস থেকে উৎপাদিত কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি পণ্য রপ্তানিকে উৎসাহিত করাই এই সিদ্ধান্তের অন্যতম লক্ষ্য। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ বস্ত্রশিল্পের প্রসার ঘটবে এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
তবে এই সুবিধা পেতে রপ্তানিকারকদের নির্ধারিত কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সদস্য রপ্তানিকারকদের দেশীয় উৎস থেকে কাঁচামাল সংগ্রহের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। বিশেষ করে সুতা ও কাপড় স্থানীয়ভাবে কেনা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে হবে।
দেশীয় তৈরি পোশাক খাত দীর্ঘদিন ধরে দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করছে। নতুন এই সহায়তার ফলে উৎপাদন খরচ সামাল দেওয়া, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং নতুন বাজার তৈরিতে উদ্যোক্তারা আরও উৎসাহিত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নগদ সহায়তা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের বস্ত্র ও পোশাক খাতে বিনিয়োগ বাড়বে। একই সঙ্গে স্থানীয় শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।



