রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাজেটে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০৯:৫০ এএম

বাজেটে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য

প্রতীকী ছবি

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বাজারে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির চাপ কমিয়ে সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফেরাতে নতুন অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে সাত শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে কর কমানো এবং বিশেষ প্রণোদনার ঘোষণা আসতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নতুন বাজেটে কৃষি, স্বাস্থ্য, উৎপাদন ও পরিবহন খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে জনজীবনে ব্যয়ের চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাজেট প্রস্তাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ওপর করের বোঝা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ধান, চাল, গম, আলু, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, ভোজ্যতেল, চিনি, গবাদিপশু ও অন্যান্য কৃষিপণ্যসহ প্রায় ৬০টি প্রয়োজনীয় পণ্যের উৎসে কর উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাসের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বর্তমানে যেসব পণ্যে সর্বোচ্চ পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত কর আরোপ রয়েছে, তা কমিয়ে শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশে নামিয়ে আনার চিন্তা করছে সরকার।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কর কমানোর ফলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় কিছুটা কমবে। এতে বাজারে পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে এবং সাধারণ ভোক্তার ওপর অতিরিক্ত চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে ব্যক্তিগত আয়কর কাঠামোতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বর্তমান তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণের চিন্তা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে এই সীমা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে বলে জানা গেছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের করের চাপ কিছুটা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শুধু নিত্যপণ্য নয়, স্বাস্থ্য ও শিল্প খাতেও একাধিক ছাড়ের উদ্যোগ রয়েছে। কিডনি চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে আগাম কর প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমে আসে। পাশাপাশি শিল্পকারখানার কাঁচামাল আমদানিতে কর হ্রাস এবং স্থানীয়ভাবে মুঠোফোন তৈরির উপকরণে কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিবহন খাতে পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাকে উৎসাহ দিতে বৈদ্যুতিক বাস ও পণ্যবাহী যান আমদানিতে কর ছাড়ের প্রস্তাব রাখা হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি ভবিষ্যতে জ্বালানি সাশ্রয় ও পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, কেবল কর কমালেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে না। গত মে মাসে দেশের মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার উচ্চ বিনিময় হার এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বাজেটে ঘোষিত পদক্ষেপ বাস্তবে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে না। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেবল বাজেট ঘোষণাই নয়, বাজার তদারকি ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নও জরুরি হয়ে পড়েছে।

সব মিলিয়ে এবারের বাজেটে জনস্বস্তি ফিরিয়ে আনা এবং নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখাই সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!