প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ১০:২৯ এএম
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও কৃষিজাত পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে প্রায় ৬০টি মৌলিক পণ্যের ওপর উৎসে কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন বাজেটে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, রসুন, আলু, গমসহ বহু প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যে কর ছাড়ের প্রস্তাব আসছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে বিভিন্ন কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর ওপর উৎসে কর পণ্যের ধরন অনুযায়ী এক, দুই কিংবা পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যমান রয়েছে। তবে নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবনায় এই হার বড় পরিসরে কমিয়ে মাত্র শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। সরকারের আশা, এতে বাজারে পণ্য সরবরাহ সহজ হবে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ কিছুটা হলেও কমে আসবে।
যেসব পণ্যের ওপর কর কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল ও বিভিন্ন কৃষিবীজ। একই সঙ্গে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি এবং মাছ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও কর রেয়াত সুবিধা কার্যকর করার কথা ভাবা হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উৎসে কর কমানোর ফলে উৎপাদক, আমদানিকারক ও সরবরাহকারীদের ব্যয় কিছুটা হ্রাস পাবে। এর প্রভাব ধীরে ধীরে পাইকারি ও খুচরা বাজারেও পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব পণ্য প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অপরিহার্য, সেগুলোর দামে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় সরকারের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কর হ্রাস কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ব্যয় কমবে এবং ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামে পণ্য কেনার সুযোগ পেতে পারেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু কর কমালেই কাঙ্ক্ষিত সুফল পুরোপুরি মিলবে না। বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, মজুতদারি রোধ, পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত তদারকি জোরদার করাও জরুরি। তা না হলে কর ছাড়ের সুফল ভোক্তার পরিবর্তে মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে চলে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, নতুন বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানোর পরিকল্পনাকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনজীবনে স্বস্তি ফেরানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা— ঘোষণার পর বাস্তব বাজারেও যেন এর ইতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান হয়।



