প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা এবং ব্যবসা পরিচালনায় দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বড় ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সরকার। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যবসা শুরু, অনুমোদন গ্রহণ এবং বিভিন্ন সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সময় ও ব্যয় কমানোর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ঘোষণা করা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার জটিলতা কমিয়ে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন, নিবন্ধন এবং লাইসেন্স গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া এখন থেকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে আবেদন জমা দেওয়া থেকে শুরু করে চূড়ান্ত অনুমোদন পর্যন্ত পুরো কার্যক্রম সাত দিনের মধ্যে শেষ করার বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে থাকা উদ্যোক্তারা স্বস্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারি পরিকল্পনায় আরও উল্লেখ রয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের জন্য নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর যদি মতামত, ছাড়পত্র বা প্রয়োজনীয় অনুমতি না দেয়, তাহলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আবেদনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। অর্থাৎ অযথা ফাইল আটকে থাকা বা প্রশাসনিক ধীরগতির কারণে উদ্যোক্তাদের যেন ক্ষতির মুখে পড়তে না হয়, সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের ক্ষেত্রে কোম্পানি নিবন্ধন ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে দীর্ঘ সময় লাগলেও নতুন উদ্যোগ অনুযায়ী নিবন্ধন কার্যক্রম দুই দিনের মধ্যেই সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে নতুন উদ্যোক্তারা দ্রুত ব্যবসা শুরু করার সুযোগ পাবেন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণেও থাকছে বিশেষ উদ্যোগ। দক্ষ জনবল ও বিশেষজ্ঞদের জন্য কর্ম-অনুমতি দ্রুত দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারী ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রবেশ অনুমতি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে এবং নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুধু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তিগুলো হালনাগাদ করার উদ্যোগ নিচ্ছে। বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং কর-সংক্রান্ত জটিলতা কমাতে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা সম্প্রসারণ ও কার্যকর করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
এ ছাড়া নির্ধারিত শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক এলাকায় প্রস্তুত অবকাঠামো সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে উদ্যোক্তারা জমি, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা প্রস্তুত অবস্থায় পেয়ে দ্রুত উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দেশে বিনিয়োগের গতি বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো গেলে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের আস্থা বাড়বে। একই সঙ্গে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনায় সময় ও খরচ কমে গেলে শিল্প খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।



