রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেল নতুন অর্থবছরের বাজেট

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম

মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেল নতুন অর্থবছরের বাজেট

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন এবং আগামী অর্থবছরের আয়-ব্যয় পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেটের সামগ্রিক কাঠামো, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা, ব্যয়ের খাত এবং ঘাটতি পূরণের পরিকল্পনা নিয়ে পর্যালোচনা শেষে জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিকেল তিনটায় জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নকে সামনে রেখে এবারের বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় ব্যয় পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে সরকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ব্যবধান সৃষ্টি হচ্ছে, যা পূরণে সরকারকে বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে হবে।

এই ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার একদিকে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের ওপর নির্ভর করবে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেও অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছে। বাজেট কাঠামো অনুযায়ী, বিদেশি ঋণ ও সহায়তা থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে বলে পরিকল্পনা রয়েছে।

অভ্যন্তরীণ অর্থ সংগ্রহের বড় অংশ আসবে ব্যাংক খাত থেকে। সরকারি হিসাবে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদের স্পিকারের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন বাজেট উপস্থাপন অনুষ্ঠানে। দেশের স্বাধীনতার পর এটি হবে ৫৫তম জাতীয় বাজেট। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের অধীনে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেটও এটি।

সংসদীয় বিধান অনুযায়ী, বাজেট সংসদে উত্থাপনের আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। পরে রাষ্ট্রপতির সম্মতি ও স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে তা চূড়ান্ত রূপ পাবে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বাজেট কার্যকর হবে বলে জানা গেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় আকারের এই বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক গতি আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!