রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

করমুক্ত থাকছে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০২:০৯ পিএম

করমুক্ত থাকছে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়

প্রতীকী ছবি

ডিজিটাল খাতে কর্মরত তরুণদের জন্য বড় সুখবর আসতে যাচ্ছে নতুন অর্থবছরের বাজেটে। স্বাধীনভাবে কাজ করা প্রযুক্তিনির্ভর কর্মী এবং সৃজনশীল ডিজিটাল নির্মাতাদের আয়কে করমুক্ত করার পরিকল্পনা করছে সরকার। পাশাপাশি এই খাতের সেবার ওপর আরোপিত মূল্য সংযোজন কর পুরোপুরি প্রত্যাহারেরও প্রস্তাব আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আজ বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নতুন বাজেটে দেশের দ্রুত বিকাশমান ডিজিটাল কর্মসংস্থান ও সৃজনশীল অর্থনীতিকে উৎসাহ দিতে একাধিক করসুবিধার ঘোষণা থাকতে পারে।

বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর স্বাধীন পেশাজীবীদের একটি অংশ সীমিত পরিসরে করসুবিধা পেয়ে থাকলেও এবার সেই পরিধি আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুধু তথ্যপ্রযুক্তি খাত নয়, অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের স্বাধীন পেশা থেকে অর্জিত সব আয়ের ওপর কর অব্যাহতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিদেশ থেকে উপার্জিত অর্থ বৈধ পথে দেশে আনার প্রবণতা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকেরা।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও নির্মাণ, ডিজিটাল শিক্ষা, বিনোদনমূলক উপস্থাপনা, নকশা, প্রচারমূলক নির্মাণসহ নানা ধরনের সৃজনশীল কাজ থেকে আয় করা ব্যক্তিদের জন্যও সুখবর রয়েছে। তরুণদের উদ্ভাবনী কাজকে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের উপার্জনকে করমুক্ত রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের ধারণা, এতে দেশের ডিজিটালভিত্তিক কর্মসংস্থান আরও সম্প্রসারিত হবে এবং নতুন প্রজন্ম উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে বেশি আগ্রহী হবে।

বর্তমানে এসব সেবার ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর কার্যকর রয়েছে। তবে নতুন বাজেটে এ কর পুরোপুরি প্রত্যাহারের প্রস্তাব থাকতে পারে। ফলে এই খাতে কাজ করা ব্যক্তিদের আর্থিক চাপ কমবে এবং তাদের আয় বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

একই সঙ্গে নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে উদীয়মান উদ্যোগভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার পরিকল্পনা করা হয়েছে। জানা গেছে, ২০৩৫ সাল পর্যন্ত স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর এবং স্থাপনা ভাড়ার ওপর আরোপিত কর মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এর মাধ্যমে নতুন ব্যবসা গড়ে তোলা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডিজিটাল অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও লাখো তরুণ স্বাধীনভাবে প্রযুক্তিনির্ভর কাজ ও সৃজনশীল উদ্যোগের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন। তাদের জন্য করসুবিধা নিশ্চিত হলে এটি দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি আরও বাড়বে।

সব মিলিয়ে, নতুন বাজেটে স্বাধীন পেশাজীবী ও সৃজনশীল ডিজিটাল নির্মাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সুযোগ দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!