প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষিখাতকে আরও শক্তিশালী ও প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিতে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির জন্য বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে এ কর্মসূচির আওতায় এক হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লক্ষাধিক ভূমিহীন ও ক্ষুদ্র কৃষক সরাসরি নগদ সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এবারের বাজেটে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের প্রাথমিক পর্যায়ে ১০০টি উপজেলায় প্রায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষকের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে। বিশেষ করে ভূমিহীন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই কার্ডের আওতায় থাকা কৃষকরা বছরে একবার আড়াই হাজার টাকা করে সরাসরি নগদ সহায়তা পাবেন, যা তাদের কৃষিকাজে প্রাথমিক ব্যয় মেটাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের কৃষিকে আরও আধুনিক, উৎপাদনমুখী ও টেকসই খাতে রূপান্তর করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। কৃষিনির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং মাঠপর্যায়ে সরকারি সেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার অংশ হিসেবে চলতি বছরের পহেলা বৈশাখ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম শুরু করা হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের কাছে অন্তত ১০ ধরনের প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষকদের জন্য সরাসরি আর্থিক সহায়তা কৃষি উৎপাদন বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে কৃষিঋণ, ভর্তুকি, বীজ, সার ও প্রযুক্তিগত সহায়তা গ্রহণেও এই কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে কৃষকদের সরকারি সেবার আওতায় আনা সহজ হবে এবং প্রকৃত কৃষক শনাক্ত করাও সম্ভব হবে।
এদিকে এবারের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সম্ভাব্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কৃষকবান্ধব এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও চাঙ্গা হবে এবং প্রান্তিক কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।



