প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
নারী উদ্যোক্তা, তরুণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পরিধি সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য সহজ অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণপ্রাপ্তি সহজ করা, নতুন ব্যবসা শুরুর সহায়তা বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগকে টেকসই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ নীতিমালা অনুসরণ করতে বলা হবে। একইসঙ্গে তরুণ উদ্যোক্তা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সহজ শর্তে অর্থ সহায়তার পথ আরও বিস্তৃত করা হবে।
সরকার মনে করছে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে কর্মসংস্থান যেমন বাড়বে, তেমনি পরিবার ও সমাজের আর্থসামাজিক অবস্থারও উন্নতি হবে। এ কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে স্বল্প সুদে ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং পরামর্শমূলক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
এছাড়া গ্রামাঞ্চল ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকিং সেবা আরও সহজলভ্য করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বহু নারী এখনও প্রয়োজনীয় জামানত বা আনুষ্ঠানিক কাগজপত্রের অভাবে অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হন। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে সেই বাধাগুলো কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন ধরনের সহায়তামূলক কর্মসূচি নিতে উৎসাহ দেওয়া হবে। এতে নতুন ব্যবসা, ক্ষুদ্র উদ্যোগ এবং স্থানীয় পর্যায়ের উৎপাদন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশা করছে সরকার।
প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় বাজেট। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ অর্থায়নের সুযোগ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি বাড়বে। পাশাপাশি তরুণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়লে সামগ্রিক উন্নয়ন আরও টেকসই হবে।



