রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পাল্টে যেতে পারে র‌্যাবের নাম

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম

পাল্টে যেতে পারে র‌্যাবের নাম

প্রতীকী ছবি

দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আলোচিত বিশেষ বাহিনী র‌্যাবের পরিবর্তে নতুন নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা চলছে। প্রস্তাবিত নতুন বাহিনীর নাম হতে পারে ‘বিশেষ প্রতিক্রিয়া ব্যাটালিয়ন’। এ বিষয়ে একটি প্রাথমিক আইনি খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রস্তুত করা খসড়ায় বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আরও সুসংহত করা, অপরাধ দমন জোরদার করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিদ্যমান কাঠামোর পরিবর্তে নতুন ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। সেই বিবেচনায় বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা পুলিশের সহায়ক শক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বাহিনীর সদস্যদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে বিভিন্ন অভিযোগ ও বিতর্কের কারণে বিশেষ বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। নতুন কাঠামোর মাধ্যমে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।

খসড়া অনুযায়ী, নতুন বাহিনীর দায়িত্বের মধ্যে থাকবে সন্ত্রাস দমন, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে সহায়তা করা। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে তদন্ত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার ক্ষমতাও রাখা হতে পারে।

এ ছাড়া বিদ্যমান বাহিনীর সম্পদ, জনবল, প্রশাসনিক কাঠামো ও চলমান দায়িত্ব নতুন ব্যবস্থার আওতায় স্থানান্তরের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। ফলে বর্তমান সদস্যরা নতুন নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন চালিয়ে যেতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ মনে করছে, বাহিনীর নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং আইনগত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, অতীতের বিতর্ক থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন কাঠামোকে জনবান্ধব ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক খসড়াটি এখনো পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে এটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। এরপর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে জাতীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আধুনিকায়ন ও জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কার্যকর নজরদারি ও সুশাসনের বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!