রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নতুন করব্যবস্থায় মধ্যবিত্ত চাপে পড়বে: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম

নতুন করব্যবস্থায় মধ্যবিত্ত চাপে পড়বে: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ছবি: সংগৃহীত

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তার মতে, নতুন আয়কর কাঠামো বাস্তবায়িত হলে মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, যাদের সম্পদ বেশি, তাদের ওপর বাড়তি কর আরোপ না করে সরকার এমন এক করব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে, যার প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচকভাবে পড়তে পারে।

সোমবার সকালে রাজধানীতে আয়োজিত বাজেটবিষয়ক এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ও করনীতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় সম্পদভিত্তিক করব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তার মতে, যাদের আয় ও সম্পদের পরিমাণ বেশি, তাদের কাছ থেকেই বেশি রাজস্ব আদায় হওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে সরকার এমন একটি পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে, যেখানে পণ্য ও সেবাভিত্তিক করের চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার ঘাড়েই গিয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, নতুন করব্যবস্থায় মধ্যবিত্ত শ্রেণি সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে। কারণ, সীমিত আয়ের মানুষদের ব্যয়ের বড় অংশই দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যের পেছনে চলে যায়। ফলে করের বাড়তি বোঝা তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই অর্থনীতিবিদ। তার মতে, কর আদায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও সুশাসনের ঘাটতি থাকলে বড় ধরনের রাজস্ব লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও তা বাস্তবে অর্জন করা কঠিন হবে। শুধু উচ্চ লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না, বরং দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই বেশি জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাজেটের বিভিন্ন অর্থনৈতিক তথ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ড. দেবপ্রিয়। মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং রাজস্ব আদায়ের তথ্য-উপাত্তে বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। তার মতে, প্রকৃত পরিস্থিতি বিবেচনায় না এনে কাগজে-কলমে ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরলে ভবিষ্যতে অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে সামাজিক ভারসাম্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রের করব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত, যাতে স্বল্প আয়ের মানুষ অতিরিক্ত চাপে না পড়ে এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও না বাড়ে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে কার্যকর পরিকল্পনা ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!