রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে সংসদে বিতর্ক, ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে সংসদে বিতর্ক, ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার নবগঠিত কয়েকটি ইউনিয়নের নামকরণকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ এবং ‘মীরবাড়ী’ নামের ইউনিয়নগুলো নিয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হলে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

সোমবার জাতীয় সংসদে বাজেট-সংক্রান্ত আলোচনার সময় বিষয়টি উত্থাপন করেন এক বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় গঠিত নতুন ইউনিয়নগুলোর নামকরণে পারিবারিক প্রভাব থাকতে পারে। বিশেষ করে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নাম দুটি প্রতিমন্ত্রীর সন্তানদের নামের সঙ্গে মিল থাকায় এ নিয়ে প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। একই সঙ্গে ‘মীরবাড়ী’ নাম নিয়েও আপত্তি তোলা হয়।

পরবর্তীতে ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইউনিয়নের নাম নির্ধারণ কোনো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল না। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাস্তবতা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনমতের ভিত্তিতে নামগুলো চূড়ান্ত করেছে। তিনি জানান, একটি ইউনিয়ন দুটি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় তার নাম রাখা হয়েছে ‘সীমান্ত’। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত দূরবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত একটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে ‘দিগন্ত’।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নাম বহু আগে থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তার সন্তানদের নামের সঙ্গে মিল থাকলেও এ নামকরণে ব্যক্তিগত কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি দাবি করেন, যদি পারিবারিক নাম প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা থাকত, তাহলে নামের সঙ্গে তার পারিবারিক পরিচয় যুক্ত করা হতো।

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি রসিকতার সুরে আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা কিংবা পরিবহন ব্যবস্থায় একই ধরনের নাম রয়েছে। সেগুলোর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে কেবল নামের মিল থাকলেই সেটিকে ব্যক্তিগত প্রভাবের ফল বলা ঠিক হবে না।

সম্প্রতি প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় কয়েকটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব ইউনিয়নের নাম ঘোষণা করা হলে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইউনিয়নের নামকরণে স্থানীয় ইতিহাস, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য এবং জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এদিকে সংসদে উত্থাপিত বিতর্কের পর বিষয়টি নিয়ে জনমনে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!