রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সীমান্তে মানবাধিকার সংকটের অভিযোগ, উদ্বেগ প্রকাশ আন্তর্জাতিক সংস্থার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ১১:২০ এএম

সীমান্তে মানবাধিকার সংকটের অভিযোগ, উদ্বেগ প্রকাশ আন্তর্জাতিক সংস্থার

ছবি: সংগৃহীত

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তজুড়ে নতুন করে মানবিক ও কূটনৈতিক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই পশ্চিমবঙ্গের বহু মানুষকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষকে সীমান্ত পার করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের প্রবেশে বাধা দিলে অনেক ক্ষেত্রেই এসব মানুষ দুই দেশের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ এলাকায় আটকা পড়ে যায়। ফলে খাবার, পানি ও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে মানবিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের।

মানবাধিকারকর্মীদের দাবি, যেসব ব্যক্তিকে সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তাঁদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছিলেন এবং নিজেদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। কেউ কেউ পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথিপত্রও প্রদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে। তবে নাগরিকত্ব যাচাই ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই তাদের বহিষ্কারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, একাধিক ঘটনায় মানুষকে খোলা আকাশের নিচে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি কয়েক দিন পর্যন্ত অবস্থান করতে দেখা গেছে। এ সময় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে বৈঠক হলেও দ্রুত সমাধান মেলেনি। পরে কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আবার ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, যথাযথ যাচাই-বাছাই ও প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে গ্রহণ করা হবে না। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই নাগরিকত্ব যাচাই ও প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হওয়া উচিত বলে মত দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মানবাধিকার সংস্থাটি আরও বলেছে, কোনো ব্যক্তি বা পরিবারকে বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়া বহিষ্কার করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার পরিপন্থী। বিশেষ করে শিশু, নারী ও প্রবীণদের সীমান্তে অনিরাপদ অবস্থায় রেখে দেওয়া মানবিক মর্যাদার পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও অভিবাসনসংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধ, আন্তর্জাতিক আইন এবং নাগরিক অধিকারের প্রতি সম্মান দেখিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!