রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

১১ বছর পর নতুন বেতন কাঠামো, সুবিধা বাড়ছে নিম্ন ও মধ্য গ্রেডে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম

১১ বছর পর নতুন বেতন কাঠামো, সুবিধা বাড়ছে নিম্ন ও মধ্য গ্রেডে

প্রতীকী ছবি

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের আর্থিক সুরক্ষা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন কাঠামোয় সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে যাচ্ছেন ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীরা।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে মাসিক ২০০ টাকা হিসেবে দেওয়া টিফিন ভাতা বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থাৎ বিদ্যমান ভাতার তুলনায় এটি পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পাবে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরাও এই সুবিধার আওতায় থাকবেন।

বেতন কমিশন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, খাদ্যসামগ্রী ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই বাস্তবতায় বর্তমান টিফিন ভাতা কর্মচারীদের প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল হয়ে পড়েছে। তাই কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও কর্মদক্ষতার বিষয়টি বিবেচনায় এনে ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

শুধু টিফিন ভাতা নয়, নতুন বেতন কাঠামোয় মূল বেতনেও বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ ছাড়া উৎসবকালীন সুবিধার অংশ হিসেবে বৈশাখী ভাতা বর্তমান মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সন্তানদের শিক্ষা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার সুপারিশও করা হয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামোর আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা। প্রথমবারের মতো সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে এমন কর্মচারীদের জন্য মাসিক অতিরিক্ত ২ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

মাঠপর্যায়ের কর্মচারী ও শিক্ষকদের মধ্যে এই প্রস্তাব ইতোমধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। তাদের মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে পুরোনো ভাতা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।

অর্থ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। নতুন এই উদ্যোগ সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং কর্মক্ষেত্রে অধিক উৎসাহ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!