প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনার সময় ট্রেডিং করপোরেশনের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ সংক্রান্ত একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সংসদ অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে সরকারি ও বিরোধী পক্ষের সদস্যদের মধ্যে একাধিক দফা বাকবিতণ্ডা হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে এক সংসদ সদস্য দাবি করেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমকে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে অনিয়মের অভিযোগ উঠছে। তার বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, কিছু ঘটনায় এই সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বা প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সংবাদ ও প্রশাসনিক তথ্যের উল্লেখ করে বলেন, এসব বিষয়ে একাধিক স্থানে মামলা এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
এই বক্তব্যের পরপরই সংসদে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্য পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, সংসদে এমন সংবেদনশীল বিষয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া উচিত। তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য রেকর্ডে থাকা উচিত নয় এবং তা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী ডেপুটি স্পিকার বক্তব্যের একটি অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আরেকজন সংসদ সদস্য দাবি করেন, যেসব বক্তব্য তথ্যভিত্তিক ও নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখসহ উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো বাদ দেওয়া সঠিক নয়।
পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য পুনরায় তার বক্তব্যের পক্ষে বিভিন্ন ঘটনা ও প্রশাসনিক তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের নজির রয়েছে, যা তার বক্তব্যের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডেপুটি স্পিকার পরে জানান, নির্দিষ্ট তথ্য ও ঘটনার উল্লেখসহ যে অংশটি উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সংসদের কার্যবিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘ বিতর্কের অবসান ঘটে এবং অধিবেশন আবার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে যায়।
এই ঘটনার পর সংসদে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ব্যবস্থা এবং এর স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে।



