প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ০১:১১ পিএম
সাবেক এক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাকে বিদেশে আটকের খবরে আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন সংস্থার কার্যক্রম আবারও আলোচনায় এসেছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে অনুসন্ধানাধীন বাংলাদেশি নাগরিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০ জনে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা তাদের খুঁজছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ অনুসন্ধান ব্যবস্থায় প্রকাশিত তালিকায় যাদের নাম রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, মানবপাচার, অস্ত্র সংশ্লিষ্ট অপরাধ, অর্থ জালিয়াতি, যৌন নির্যাতন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রকাশিত তালিকাই চূড়ান্ত নয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেক সময় সব অভিযুক্তের পরিচয় প্রকাশ করা হয় না।
জানা গেছে, কিছু বাংলাদেশিকে বিদেশি রাষ্ট্রের অনুরোধে খোঁজা হচ্ছে। তাদের মধ্যে বিভিন্ন দেশে সংঘটিত হত্যা, হত্যাচেষ্টা, জাল মুদ্রা চক্র এবং অন্যান্য অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকে এসব ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও বহু পলাতক আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা, মানবপাচার, নির্যাতন, প্রতারণা, অস্ত্র ও অশ্লীলতা-সংক্রান্ত মামলার অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা একাধিক আলোচিত আসামিও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। প্রযুক্তির উন্নতির কারণে অপরাধীরা সহজেই এক দেশ থেকে অন্য দেশে পালিয়ে যেতে পারলেও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় ব্যবস্থার ফলে তাদের শনাক্ত করা এখন অনেক বেশি সহজ হয়েছে।
বিশ্বের প্রায় দুই শতাধিক দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে এই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান অপরাধ দমন, পলাতক আসামি শনাক্তকরণ এবং সীমান্ত পেরিয়ে সংঘটিত অপরাধ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হলে বহু পলাতক অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।



