প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়ভাবে সুপরিচিত শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নাম যুক্ত করার একটি প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা পড়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর এলাকায় বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও মতবিনিময় শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় বিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পাঠানো হয়। প্রস্তাবে বিদ্যালয়ের বর্তমান নামের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর নাম সংযুক্ত করে নতুন নাম নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রস্তাব পাওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি সরেজমিনে পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে বগুড়ার জেলা প্রশাসক এবং রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে বিস্তারিত মতামত চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাস, শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান, নাম পরিবর্তনের যৌক্তিকতা এবং স্থানীয় জনগণের মতামত বিবেচনায় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নাম পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বাস্তব অবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে সুস্পষ্ট মতামতসহ সুপারিশ পাঠাতে বলা হয়েছে।
এদিকে বিষয়টি সামনে আসার পর অনেকেই সম্প্রতি নতুন ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে হওয়া আলোচনার প্রসঙ্গও টেনে আনছেন। এর আগে বগুড়ার শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের নাম নির্ধারণকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা ও সমালোচনা দেখা দিয়েছিল। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ ছিল, কিছু ইউনিয়নের নাম ব্যক্তিবিশেষের পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গে মিল রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে সে সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব অভিযোগ নাকচ করে দেন। তিনি দাবি করেন, ইউনিয়নগুলোর নাম নির্ধারণে ব্যক্তিগত কোনো প্রভাব ছিল না। স্থানীয় জনগণের মতামত, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং প্রশাসনিক বিবেচনার ভিত্তিতেই নামকরণ সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমানে বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়েও বিভিন্ন মতামত সামনে আসছে। কেউ কেউ মনে করছেন, শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান থাকলে কোনো ব্যক্তির নামে প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা অস্বাভাবিক নয়। আবার অন্যদের মতে, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বহনকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের আগে স্থানীয় জনগণ, সাবেক শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুপারিশ পাওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে। ফলে বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি এখনো প্রস্তাবনার পর্যায়েই রয়েছে।
স্থানীয় শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম শুধু একটি পরিচয় নয়, এটি ঐতিহ্য ও ইতিহাসেরও অংশ। তাই এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বস্তরের মতামত এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করা প্রয়োজন।



