প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
দেশের নদী, খাল, বিল, হাওর, বাঁওড়সহ সরকারি জলাশয়গুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জলমহাল দখল, ভরাট, দূষণ, প্রাকৃতিক প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং জলজ সম্পদ ধ্বংসের মতো কর্মকাণ্ড রোধে নতুন আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডসহ বিভিন্ন কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারি জলমহাল অবৈধ দখল, দূষণ এবং অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের জীবন ও জীবিকা। এসব সমস্যা সমাধানে একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরে অনুভূত হচ্ছিল।
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, দেশের জলমহাল শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং লাখো মানুষের জীবিকার অন্যতম ভিত্তি। তাই এসব সম্পদ রক্ষায় শক্তিশালী আইনি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সময়ের দাবি। তিনি জানান, নতুন আইনের মাধ্যমে জলমহালের সুরক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
খসড়া আইনে দেশের সব সরকারি জলমহালের তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার তৈরির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে জলমহালের অবস্থান, আয়তন, ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত তথ্য একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা হবে। ফলে নজরদারি এবং সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুরুতর অপরাধগুলোকে আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য হিসেবে বিবেচনার বিষয়ও খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে জলাশয় দখল, পরিবেশ ধ্বংস কিংবা জলজ সম্পদ বিনষ্টের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হবে।
পরিবেশবিদদের মতে, জলমহাল কেবল মাছের উৎস নয়; বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি সংরক্ষণ, ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এসব জলাশয় রক্ষায় শক্তিশালী আইন প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি ছিল।
অন্যদিকে মৎস্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রকৃত জেলেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে জলমহাল ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হলে মাছ উৎপাদন বাড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তবে তারা আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, পরিবেশবিদ, মৎস্যজীবী সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। সব পক্ষের পরামর্শ পর্যালোচনা শেষে খসড়া আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন আইন কার্যকর হলে দেশের জলমহাল সংরক্ষণে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।



