প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে অর্থনীতি একাধিক চাপে রয়েছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি প্রত্যাশিত মাত্রায় না বাড়ায় আগামী দুই বছর দেশের জন্য কঠিন সময় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সোমবার একটি গবেষণা সংস্থার আয়োজিত বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সহজ হবে না এবং এজন্য একটি নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন। তার মতে, বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে।
তিনি আরও বলেন, এই সময়ে সরকার সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করবে। তবে অর্থনৈতিক কাঠামো পুরোপুরি পুনর্গঠন করতে সময় লাগবে। তার মতে, আগামী দুই বছরের মধ্যে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাবে এবং তৃতীয় বছরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করবে।
অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে দেশ আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবস্থানে পৌঁছাবে, যা টেকসই প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করবে।
পুঁজিবাজার নিয়েও তিনি একই ধরনের সতর্ক বার্তা দেন। তার মতে, এই খাতকে স্থিতিশীল করতে আস্থা পুনরুদ্ধার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এজন্য একটি স্বাধীন কমিশন কাজ করছে, যারা বাজারের স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে নীতিগত সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করতে নিয়মকানুন সহজ করা এবং অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমানো জরুরি। ব্যবসা পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করে এমন প্রক্রিয়াগুলো ধীরে ধীরে কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে সঞ্চয় বৃদ্ধি, সম্পদ সৃষ্টি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমিত আয়ের মানুষের ওপর চাপ কমানো এবং ন্যায়সঙ্গত কর কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও তিনি মত দেন।
সব মিলিয়ে আগামী দুই বছর দেশের অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জিং সময় হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী, তবে ধাপে ধাপে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।



