রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গুমের শিকার পরিবার পাবে বিশেষ ভাতা: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম

গুমের শিকার পরিবার পাবে বিশেষ ভাতা: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে গুমের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের দীর্ঘদিনের কষ্ট ও আর্থিক দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার বিশেষ ভাতা চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। এ লক্ষ্যে চলতি অর্থবর্ষের বাজেটে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, গুমের শিকার পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

সংলাপে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনরা তাঁদের দীর্ঘদিনের বেদনা, অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাঁদের আবেগঘন বক্তব্যে পুরো মিলনায়তনের পরিবেশ ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। বক্তারা ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং বিচারপ্রাপ্তির বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের উপ-স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, এখন আর শুধু শোক প্রকাশের সময় নয়, বরং অধিকার আদায় এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার সময় এসেছে। তিনি মানবাধিকার কমিশনের কার্যকারিতা আরও বাড়ানো এবং গুম-সংক্রান্ত বিষয়ে একটি সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচার কার্যক্রমের প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা গুমের শিকার পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, ন্যায়বিচার এবং রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!