প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২৬, ০৯:২৪ এএম
সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ব্যক্তিগত ঋণ গ্রহণ আরও সহজ করতে নতুন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধের সর্বোচ্চ সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে আট বছর করা হয়েছে। একই সঙ্গে খুচরা ঋণ সম্প্রসারণে এতদিন কার্যকর থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতাও তুলে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে ব্যাংকগুলো এখন আগের তুলনায় আরও বেশি পরিসরে ভোক্তা ঋণ বিতরণ করতে পারবে।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। নতুন নীতিমালার আওতায় ব্যাংকগুলো তাদের সামগ্রিক ঋণ প্রবৃদ্ধির তুলনায় বেশি হারে ভোক্তা ঋণের পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগ পাবে। আগে মোট ঋণ বৃদ্ধির হার অতিক্রম করে ভোক্তা ঋণ বাড়ানোর অনুমতি ছিল না। নতুন সিদ্ধান্তে সেই সীমা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ব্যক্তিগত ঋণের পরিশোধকাল দীর্ঘ হওয়ায় গ্রাহকদের মাসিক কিস্তির চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। ফলে মধ্যম আয়ের মানুষসহ সাধারণ ঋণগ্রহীতাদের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা আরও সহজ হবে। বিশেষ করে শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসাবাড়ির প্রয়োজনীয় ব্যয় কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ঋণ নিতে আগ্রহীদের জন্য এটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা সতর্কও করেছেন। তাদের মতে, ঋণের সময়সীমা বাড়ানোর ফলে গ্রাহকদের আর্থিক চাপ কমলেও ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করতে হবে। যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া ঋণ বিতরণ করা হলে ভবিষ্যতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই নতুন সুবিধা বাস্তবায়নের পাশাপাশি কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভোক্তা ঋণের প্রবৃদ্ধির ওপর আরোপিত সীমা তুলে নেওয়ায় ব্যাংকগুলো খুচরা ঋণ খাতে নতুনভাবে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে। এর ফলে বাজারে ব্যক্তিগত ঋণের চাহিদা পূরণ সহজ হবে এবং আর্থিক লেনদেনের গতিশীলতাও বৃদ্ধি পেতে পারে।
এর আগে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিদ্যুৎচালিত ও সংকরচালিত মোটরযান কেনার ক্ষেত্রে ঋণের সর্বোচ্চ সীমাও বৃদ্ধি করেছিল। সেই সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঋণ ও নিজস্ব অর্থের অনুপাতও গ্রাহকবান্ধবভাবে পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ধারাবাহিক এসব নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একদিকে সাধারণ মানুষের জন্য ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতে চাইছে, অন্যদিকে ব্যাংক খাতে খুচরা ঋণের পরিধি বাড়িয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনতে উদ্যোগী হয়েছে। তবে এই সুবিধার সুফল পুরোপুরি পেতে হলে দায়িত্বশীল ঋণ বিতরণ এবং সময়মতো ঋণ পরিশোধের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।



