রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

খেলাপি ঋণ নিষ্পত্তিতে নতুন সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম

খেলাপি ঋণ নিষ্পত্তিতে নতুন সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রতীকী ছবি

দেশের ব্যাংক খাতে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণের চাপ কমানো এবং নতুন ঋণ বিতরণের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ নির্দেশনার আওতায় আর্থিক সংকটে থাকা কিন্তু ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা বজায় রাখা ঋণগ্রহীতারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে তাদের ঋণের দায় পরিশোধের সুযোগ পাবেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ব্যাংক খাতে আটকে থাকা বিপুল অর্থ পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি উৎপাদনমুখী খাতে নতুন ঋণপ্রবাহ বাড়ানো সহজ হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডকে গতিশীল রাখতে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকায় অনেক ব্যাংক তারল্য সংকট, সম্পদের মানের অবনতি এবং নতুন ঋণ বিতরণে নানা ধরনের সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন নীতিমালার আওতায় যেসব ঋণ বর্তমানে ‘মন্দ’ বা ‘ক্ষতিজনক’ শ্রেণিতে রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের ভিত্তিতে বিশেষ নিষ্পত্তির সুযোগ দেওয়া হবে। তবে এই সুবিধা পেতে হলে ঋণগ্রহীতাকে ঋণের মূল অর্থ এককালীন পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারলে সুদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় বা মওকুফের সুযোগও বিবেচনা করা হবে।

এছাড়া পূর্বে পুনঃতফসিল করা নির্দিষ্ট সময়ের কিছু ঋণও এই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। ফলে যেসব ঋণগ্রহীতা আর্থিক সংকট কাটিয়ে আবার ব্যবসা সচল রাখতে সক্ষম হয়েছেন, তারাও এই সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা অনেক ঋণ নিষ্পত্তির সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও নির্দেশ দিয়েছে, কৃষি খাতের স্বল্পমেয়াদি ঋণ এবং কুটির, অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ দেশের খাদ্য উৎপাদন, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখতে এই খাতগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধুমাত্র বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করাই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আবারও খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এই উদ্যোগ ব্যাংক খাতে আটকে থাকা অর্থ পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে, ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়াবে এবং নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!