প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬, ১২:১০ পিএম
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে নাগরিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে ব্যাপক পরিসরে পুলিশি অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় নতুন শহর এলাকায় চারটি থানা, ছয়টি তদন্ত কেন্দ্র, দুটি পুলিশ লাইন, তিনটি উপ-পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় এবং একচল্লিশটি পুলিশ বক্স স্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, দ্রুত বর্ধনশীল এই নগর এলাকায় আধুনিক ও কার্যকর আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার সকালে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় বরকাউ পুলিশ ক্যাম্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, পূর্বাচলকে একটি পরিকল্পিত, নিরাপদ ও আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পুলিশি কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক জানান, নতুন স্থাপনাগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দের কাজও অনেক দূর এগিয়েছে। পুলিশের অনুকূলে বরাদ্দ হওয়া প্রায় ঊনত্রিশ দশমিক একুশ একর জমির মধ্যে আঠারো দশমিক তেষট্টি একরের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট জমির প্রক্রিয়াও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে পূর্বাচলকে ঢাকা মহানগর পুলিশের আওতায় এনে আলাদা একটি প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিভাগের নেতৃত্বে থাকবেন একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার। পাশাপাশি নতুন বিভাগে প্রায় ছয় হাজার পাঁচশ চব্বিশটি জনবল সৃষ্টিরও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও নগরায়ণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিরাপত্তা সেবা নিশ্চিত করা যায়।
পুলিশ মহাপরিদর্শকের মতে, পরিকল্পিতভাবে এসব অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন হলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া প্রদান এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অনেক সহজ হবে। একই সঙ্গে নাগরিক সেবার মান উন্নত হবে এবং পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও আধুনিক রূপ পাবে।
তিনি বলেন, পূর্বাচল ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক ও বাণিজ্যিক নগর হিসেবে বিকশিত হবে। তাই শুরু থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা অত্যন্ত প্রয়োজন। উন্নত পুলিশি অবকাঠামো গড়ে উঠলে বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি বাসিন্দারা নিরাপদ পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা পূর্বাচলে আধুনিক পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্টদের আশা, পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক নগর হিসেবে দেশের সামনে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।



