প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম
দেশের খাদ্যশস্যের মজুত আরও শক্তিশালী করতে বড় পরিসরে গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিদেশ থেকে মোট ২ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন গম কেনাসহ সাতটি পৃথক ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভ্যন্তরীণ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে খাদ্য, কৃষি, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ খাতের বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা শেষে অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল খাদ্য মন্ত্রণালয়ের গম আমদানিসংক্রান্ত দুটি প্রস্তাব।
প্রথম প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের একটি প্যাকেজের আওতায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম কেনা হবে। নির্ধারিত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য ধরা হয়েছে ২৯৭ দশমিক ৯২ মার্কিন ডলার। এই চালানে সরকারের মোট ব্যয় হবে প্রায় ১৮২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।
অন্যদিকে সরকার-টু-সরকার চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই চালানের ক্ষেত্রে প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২২ মার্কিন ডলার। সব মিলিয়ে এই আমদানিতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৮৬৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে খাদ্যশস্যের দামের ওঠানামা এবং সম্ভাব্য সরবরাহ ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে আগাম মজুত নিশ্চিত করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য সংরক্ষণ করা গেলে বাজার স্থিতিশীল রাখা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
অর্থনীতি ও খাদ্য খাতের বিশ্লেষকদের মতে, সময়মতো প্রয়োজনীয় গম আমদানি দেশের কৌশলগত খাদ্য মজুতকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে সম্ভাব্য অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায়ও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



